ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়েছে ঢাকা থেকেই। তাই এখন ঈদ যাত্রায় যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের সাথে ডেঙ্গু জীবাণু থাকা অস্বাভাবিক নয়। এজন্য বাড়তি সতর্কতা নেয়ার কথা জানা গেছে। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই রাজশাহীসহ সর্বত্রই ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত পদৰেপ জর্বরি হয়ে পড়েছে।
কারণ ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়ায় যে এডিস মশা তা ঝোঁপ-ঝাড়, ময়লা আবর্জনা, ডোবা-নালার নোংরা পানিতে নয়, বাসাবাড়ি-দালান কোঠার ভেতরে বা আশ পাশে পরিত্যক্ত ভাঙাচোরা পাত্রে, গাছের টবে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশ বিস্তার করে। ডেঙ্গু আক্রান্তকে কামড়ের পর তার রক্তের বাহক হিসেবে এডিস মশাই এ রোগ ছড়ায়। তাই এডিসের কামড় থেকে বাঁচতে বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীসহ সবারই দিনে-রাতে মশারি ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া দরকার।
রাজশাহীতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৪৮, সুস’ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫০, এখনও ভর্তি আছেন শতখানেক। এদের মধ্যে অন্তত একজন রাজশাহীতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এখন আর ডেঙ্গুমুক্ত নগরী বলা যায় না। তার ওপর নগরীর ১৪ স্পটের জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়াতে আশঙ্কা বেড়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এবং সিটি কর্পোরেশনের ফুটপাত নির্মাণ কাজের স’ানেও মিলেছে এডিসের লার্ভা। এটাকে সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া জর্বরি হলেও তেমন লৰণ দেখা যাচ্ছে না। নগরীতে আগের মতই পরিচ্ছন্নতা তৎপরতা চলছে। ফগার মেশিনে উড়ন্ত মশা নিধন শুর্ব হবার কথা জানা গেছে। পরিবেশের জন্য ৰতিকর বিবেচনায় যা বন্ধ আছে ২০১৫ সাল থেকেই। আর ড্রেনগুলোতে যৎসামান্য ডিজেল-কেরোসিনের মিশ্রণ ছেটানো হলেও এতে যে এডিস নয়, কিউলেক্স মশা মরে সেটা তা জানা কথা। এডিস মশা ও তার বংশ বিস্তার ধ্বংসে ভিন্ন পদৰেপ প্রয়োজন।
বাসাবাড়ি, দালানকোঠার ভেতরে ও আশপাশে বিভিন্নভাবে জমে থাকা পানি ও তার উৎস অপসারণ ছাড়া এডিসের বংশবিস্তার শেষ হবে না। এ জন্য জনসাধারণের সচেতনতা ও সক্রিয়তা অপরিহার্য। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সৃষ্টির তাগিদ যে ভাবে আসছে বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। আসলে কোনো সমাজেই জনসচেতনতার ওপর ছেড়ে দিয়ে কোনো কাজ হয় না। এজন্য দরকার উদ্যোগ গ্রহণের। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ছাড়া সচেতন হলেও মানুষের অংশগ্রহণ আশা করা কঠিন। এ ৰেত্রে সংশিৱষ্ট প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স’ানীয় প্রশাসন, সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃত্বের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। এ জন্য নগর কর্তৃপৰের দিকেই তাকিয়ে থাকে মানুষ।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি যত বাড়ছে কার্যকর পদৰেপের আশায় সমন্বিত কার্যক্রমের তাগিদ ততই বাড়ছে। এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য নগর কর্তৃপৰ ও স’ানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর ভরসা রাখার বিকল্প নেই নগরবাসীর।