নারী ও শিশুদের অবস’া থেকে একটি সমাজের চরিত্র বোঝা যায়। সভ্য সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকে। নির্যাতনের কোনো ঘটনাই গুর্বত্বহীন হয় না। নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সামাজিক নিরাপত্তাকে সংহত করে। কিন’ আমাদের মত দেশে অবস’ার তেমন উন্নতি দেখা যায় না। এজন্য রাজনৈতিক-সামাজিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াও আইনী ব্যবস’ার দুর্বলতাও অস্বীকার করা যায় না।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতনে রাজশাহী বিভাগের শোচনীয় অবস’ার কথা উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ১২টি করে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে যদিও গড়ে প্রতিদিন ১৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে নওগাঁ জেলায় মামলার সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন চারটি। বিভাগের আট জেলার মধ্যে নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জের অবস’া সব চেয়ে খারাপ।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিভাগে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭৭টি হলেও সিরাজগঞ্জে চার হাজার ৫০৮ ও নওগাঁয় দুই হাজর ৮৮০। এই দুই জেলায় মামলার সংখ্যা সাত হাজারের বেশি আর বিভাগের অন্য ছয় জেলায় এ সংখ্যা নয় হাজারের কম। সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর পর বগুড়া জেলার অবস’া খারাপ। সেখানে দুই হাজার ৭২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া আট জেলায় নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৬২টি মামলার কার্যক্রম স’গিত রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়ে বগুড়ায় ২৬টি, সিরাজগঞ্জে ২০টি এবং নওগাঁয় ১৫টি মামলার কার্যক্রম স’গিত রয়েছে বলেও প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।
আবার এসব মামলার শুনানীতে দীর্ঘসূত্রতার ঘটনাও কম নয়। পাঁচ থেকে দশ বছর বা তারও বেশি পুরানো মামলা সিরাজগঞ্জে এক হাজার ৫২৯টি, নওগাঁয় এক হাজার ৬০০। এ দুই জেলায় মোট মামলা যথাক্রমে পাঁচ হাজার ৩০ এবং তিন হাজার ৩৭৩। অন্য প্রতিটি জেলায়ও এ ধরনের মামলা রয়েছে তবে সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম।
দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাই মানুষকে উদ্বিগ্ন করে। অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি না হওয়া সে উদ্বেগকে না বাড়িয়ে পারে না। ফলে সমাজে নিরাপত্তহীনতা বৃদ্ধি পায়। আর বিচারে দেরি হওয়ার অর্থ যে বিচার অস্বীকার করা সেটাও সবার জানা। তাই বিচারে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা যেমন জর্বরি তেমনি মামলার কার্যক্রম দ্র্বত শেষ করে অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করাও গুর্বত্বপূর্ণ। এ ৰেত্রে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে তা দূর না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিই গেড়ে বসবে, এতে সন্দেহ নেই। যা মোটেই মঙ্গলজনক হবে না।
তাই নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করার প্রয়োজনীয় পদৰেপ নেয়া জর্বরি বলেই আমরা মনে করি।