স্টাফ রিপোর্টার: বিগত চার বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদের চামড়া কেনার পুঁজি সংকটে রয়েছেন রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। ট্যানারি মালিকদের কাছে পড়ে থাকা বকেয়া টাকা আদায় করতে না পারার কারণে তাদের পুঁজির সংকট কাটেনি। তাই এবারও আসন্ন কোরবানিতে পশুর চামড়া কিনতে বেগ পেতে হবে তাদের।
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের চার বছরের পাওনা টাকা বকেয়া পড়ে আছে। গত বছরের চামড়া বিক্রির টাকাও ব্যবসায়ীরা পুরোপুরি হাতে পাননি। ফলে এবার পড়েছেন চরম পুঁজি সংকটে। গত দুই যুগ ধরেই খুঁড়িয়ে চলছে রাজশাহীতে চামড়ার ব্যবসা।
রাজশাহীতে ২০ বছর ধরে চামড়া ব্যবসা করেন রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ৫ বছর থেকে তার সংকট চলছে। ট্যানারি মালিকরা টাকা দিচ্ছেন না। এ বছর সংকট আরও বেড়েছে। এ বছর ঈদের আগেই বকেয়া টাকা না পেলে চামড়া কিনবেন না বলেও জানান রবিউল ইসলাম।
রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রম্নপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন, বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে চামড়া ব্যবসায়ীর এমন বেহাল অবস্থা কখনো হয়নি এবং দেখিনি। নিজের প্রায় আট কোটি টাকা বিভিন্ন ট্যানারিতে পাওনা থাকলেও এবারের ঈদে কোরবানির চামড়া কেনার টাকা নেই।
তিনি বলেন, ট্যানারী ব্যবসায়ীরা কোনো টাকা ফেরৎ দিচ্ছে না। রাজশাহী অঞ্চলে ১২৭ জন ব্যবসায়ী থাকলেও বর্তমানে ব্যবসা করছেন মাত্র ৮ থেকে ১০ জন। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ট্যানারি ও বড় বড় চামড়ার আড়তে বাকীতে চামড়া দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই টাকা কবে নাগাদ ফেরৎ আসবে তারও নিশ্চয়তা নেই। পুঁজি হারিয়ে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রম্নপের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ বলেন, গত চার বছরে ট্যানারি মালিকদের কাছে রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারছেন না কয়েক বছর ধরেই। তখন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে থাকেন কোনো কিছু না বুঝেই। পরে চামড়া কিনতে গিয়ে তারাও বিপদে পড়েন।
এদিকে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানি পশুর চমড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরম্নর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার ঈদের পর থেকেই চামড়ার দাম কমে গেছে। বর্তমানে গরম্নর চামড়া প্রতি বর্গফুট বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা। আর বড় ছাগল-ভেড়ার চামড়া বিক্রি হচ্ছে সবোর্চ্চ ১০-১২ টাকা। তাই কোরবানির ঈদে সরকার নির্ধারিত বেশি দামে চামড়া কেনার সম্ভাবনা খুব কম।