সোনালী ডেস্ক: নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগে সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর অবস্থা সব থেকে খারাপ। বিভাগের আট জেলায় বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭৭টি।
এর মধ্যে শুধু সিরাজগঞ্জে ৪ হাজার ৫০৮ ও নওগাঁয় মামলার সংখ্যা ২ হাজার ৮৮০। এ দুটি জেলায় মামলার সংখ্যা সাত হাজারের বেশি, আর বাকি ছয়টি জেলায় মামলার সংখ্যা ৯ হাজারের কম।
সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁর পরে খারাপ অবস্থায়ে আছে বগুড়া। সেখানেও দুটি ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৭২৯টি মামলা বিচারাধীন। আর সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও বগুড়ায় মামলার কার্যক্রম স্থগিতের হার বাকি পাঁচ জেলার চেয়ে বেশি।
আটটি জেলার নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ৬২টি মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ২৬টি, সিরাজগঞ্জে ২০টি এবং নওগাঁয় ১৫টি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন বিশেস্নষণে এই তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যনত্ম তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৃহত্তর রাজশাহীর ১২টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রতিটি জেলায় চলতি বছরের প্রথম ৯০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১৮টি করে মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে প্রতিদিন গড়ে ১২টি করে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁ একমাত্র জেলা যেখানে গড়ে প্রতিদিন চারটি করে মামলা দায়ের হয়েছে।
উলেস্নখ্য, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার ড়্গেত্রেও সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ তাদের খারাপ অবস্থা বজায় রেখেছে। সিরাজগঞ্জে ৫ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি পুরনো মামলা ১ হাজার ৫২৯টি। আর নওগাঁয় এর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০টি। এ দুটির মোট মামলা যথাক্রমে ৫ হাজার ৩০ এবং ৩ হাজার ৩৭৩।
এদিকে বাকি পাঁচ জেলার পুরনো মামলার হার ওই দুটি জেলার চেয়ে অনেক নিচে। রাজশাহীর দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ১ হাজার ৩২০টির মধ্যে ২৫৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাত্র ৪২৯টির মধ্যে ১০টি, নাটোরের ১ হাজার ৬২৩টির মধ্যে ৬১৭, বগুড়ার ২ হাজার ৭২৯টির মধ্যে ৯০৭, জয়পুরহাটের ৬০৭টি মামলার মধ্যে ১০৬, পাবনায় ১ হাজার ৭৮১টি মামলার মধ্যে ৩৩১টি মামলা কমপড়্গে পাঁচ বছর ধরে চলমান রয়েছে।