বগুড়া প্রতিনিধি: ঢাকায় রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া বগুড়ার গৃহবধূ আনিকা নওশিন সারার লাশ ময়না তদন্তের জন্য দাফনের ৭১ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি টিম বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার সান্তাহার নতুন বাজার এলাকার পারিবারিক কবরস’ান থেকে লাশটি উত্তোলন করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত আনিকা নওশিন সারার সঙ্গে বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মেরিন প্রকৌশলী শাকিল আদনানের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তারা সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন। বিয়ের কিছুদিন পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। নিউ ইস্কাটন এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন নওশিন। তাদের আরাফাত (৮) ও সাদাত (৫) নামে দুই ছেলে রয়েছে। কিছু দিন যাবত তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।
গত ২৬ মে মে রাতে ভাড়া বাসায় রহস্যজনকভাবে আনিকা নওশিনকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস’ায় উদ্ধার করে স্বজনরা । পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেয়ার পর চিকৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিষয়টি রহস্যজনক হবার পরও ঢাকা থেকে তার লাশ বগুড়ার আদমদিঘির সান্তাহার নতুন বাজার এলাকায় নিয়ে এসে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় আনিকা নওশিনের বড় বোন নাজমুন নাহার বাদি হয়ে গত ৩১ জুন ঢাকার হাতিরঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাকিল আদনানকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি ঢাকায় সিআইডিতে স’ানান্তর করা হলে তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই দেলোয়ার হোসাইন মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ও আনিকা নওশিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেৰিতে আদালত আনিকা নওশিনের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ দেন। এরপর মঙ্গলবার বগুড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের উপসি’তিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে ঢাকা থেকে আসা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি’র এসআই দেলোয়ার হোসাইন স’ানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা জানা যাবে।
গৃহবধূর লাশ