রাজশাহীতে এখন পর্যনত্ম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেই আছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যনত্ম প্রায় দেড় শত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার অর্ধেকের মতো। সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। ভর্তি আছেন শতাধিক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৩ জন ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। প্রায় সব রোগীই ঢাকা থেকে আক্রানত্ম হয়েছেন। এটা আপাত স্বসিত্মদায়ক মনে হলেও এতে আশ্বসত্ম থাকার সুযোগ নেই।
কারণ প্রতিদিনই মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করে। ঈদের আগে অনেকেই আসবেন ঢাকা থেকে। তারা যে ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে আনবেন না এর নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে রাজশাহীতেই ডেঙ্গুর জীবাণু বাহক এডিস মশার ব্যাপক উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অতি সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের উদ্যোগে গঠিত কীটতত্ববিদদের তিন সদস্যের কমিটি নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব, প্রজনন ড়্গেত্র ও বিসত্মার সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করে উদ্বেগজনক রিপোর্ট দিয়েছে। পাঁচ দিন ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে জমে থাকা পানির নমুনা সংগ্রহ করে তার মধ্যে ব্যাপকভাবে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর এবং সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক রাসত্মার ফুটপাতের নির্মাণস্থলের পাইপে জমে থাকা পানিতে লার্ভার ছড়াছড়ি প্রমাণ করে আমরা কী ধরনের বিপদের হুমকির মধ্যে আছি। বিভিন্ন ওয়ার্ডের দালান কোঠার এখানে সেখানে জমে থাকা পানিতেও লার্ভার ব্যাপক উপস্থিতি দেখিয়ে দেয় রাজশাহীতে এডিস মশার অভাব নেই।
তবে হাসপাতালে সীমিত সংখ্যক ডেঙ্গু রোগী এবং স্থানীয় কেউ আক্রানত্ম না হওয়ায় বিপদ এখন পর্যনত্ম ঘরের বাইরে আছে বলা যায়। এখনই যদি এডিস মশা ও তার প্রজনন স্থান ধ্বংসে কার্যকর অভিযান শুরম্ন করা যায় তবে অনত্মত এডিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে । পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রানত্মদের সুচিকিৎসা ও নিরাপদে রাখা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিপদমুক্ত থাকবে রাজশাহী।
এড়্গেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হাসপাতাল, সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। সরকারি-বেসরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, সমিতি-সংগঠনকেও জনগণের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। একইভাবে সাধারণ মানুষ সচেতন ও সক্রিয় হলে এডিস মশা ও তার বংশবিসত্মারের সুযোগ ধ্বংস করা কঠিন হবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও তার আশপাশে বিভিন্নভাবে জমে থাকা পানিতেই এডিসের বংশবিসত্মার, এটা এখন কারও অজানা নেই। তাই সাধারণ মানুষের ভূমিকার ওপরও নির্ভর করতে হবে।
সবাই সচেতন ও আনত্মরিকভাবে সক্রিয় হলে যে এডিস মশা ও তার অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাবে না, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
মনে রাখা দরকার, এডিস মশার অবস্থান প্রধানত আবাসিক এলাকা, দালান কোঠা ও তার আশাপাশে জমে থাকা পরিস্কার পানিতে। ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ের পর এই মশা কাউকে কামড়ালে রড়্গা নেই। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা ধ্বংস করতে সবারই এগিয়ে আসা আজকের প্রধান দায়িত্ব। এড়্গেত্রে বিকল্প কিছু আছে বলে মনে হয় না।