স্টাফ রিপোর্টার: আজ বুধবার, শোকাবহ আগষ্ট মাসের সপ্তম দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যেখানেই ভূমিকা রেখেছেন তাকে ছায়ার মত আগলে রেখে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন তার সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা চড়াই-উত্রাইয়ের সঙ্গী ছিলেন বেগম মুজিব। এই মহীয়সী নারী মানবসেবায় সারাজীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। বেগম মুজিব এবং মুজিব ভাবী নামে রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে তিনি শ্রদ্ধার পাত্রী ছিলেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যতবার কারারম্নদ্ধ হয়েছেন সনত্মান-পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের বেগম মুজিব সাহস যুগিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই মহীয়সী নারীর অবদান অসামান্য। একজন আটপৌরে বাঙ্গালি নারীর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছিলেন তিনি। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, বিরহ-বেদনায় তিনি ছিলেন প্রেরণার উৎস। নিরবে-নিভৃতে তিনি বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা যুগিয়েছেন। তিনি কখনোই বিচলিত হননি। একজন রাজনৈতিক নেতার সহধর্মিণী হিসাবে সারাদিন মানুষকে আহার যুগিয়েছেন। হাসিমুখে অকাতরে দান করেছেন; কিনত্মু কখনোই নিজের কষ্ট কাউকে বুঝতে দেননি। সদালাপী, নির্মোহ, নিরহংকারী বেগম মুজিব ছিলেন সকলের শ্রদ্ধার পাত্রী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে শত্রম্নহীন, সদালাপী, বহুগুণে গুণান্বিত এই গৃহবাসী নারীও ঘাতকের তপ্ত বুলেট থেকে রেহাই পাননি। জাতির জন্য সত্যিই এ এক বড় দুর্ভাগ্য। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তড়্গয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে চূড়ানত্ম বিজয় অর্জিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭২’র ১০ জানুয়ারি পশ্চিম পকিসত্মানের জেল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বসত্ম বাংলাদেশকে গড়ে তোলার কাজ শুরম্ন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে তাৎড়্গণিক অনেক পদড়্গেপ তাকে নিতে হয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বসত্ম বাংলাদেশে বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জাতিকে শিড়্গিত করতে প্রাথমিক শিড়্গাকে জাতীয়করণ করেছিলেন তিনি। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দ্বিতীয় বিপস্নবের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্‌বানে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ আবারো মাঠে-ঘাটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশে যখন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে চালের দাম কমে আসে ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেয়।