স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীতে এডিস মশার লার্ভার ব্যাপক উপসি’তি পাওয়া গেছে। মেডিকেল কলেজের অধ্যড়্গের বাসভবন ও কলেজ ছাত্রীনিবাসের সামনেই মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পস্নাস্টিক পাত্রে ও দোকানের ব্যাটারির সেল ও টায়ারে এবং রাসত্মার ধারে পাইপে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভার উপসি’তি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস’্য পরিচালক গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে আলোচনার পর তিনি উদ্যোগ নিয়ে কীটতত্ববিদদের তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করেন। টিমটি গত ৫দিন ধরে বিভিন্ন ওয়ার্ড (মাঠ পর্যায়) থেকে নমুনা সংগ্র করে প্রাথমিক পর্যায়ে এডিস মশার লার্ভার উপসি’তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
কমিটির প্রধান হচ্ছেন সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের জেলা কীটতত্ববিদ তায়েজুল ইসলাম। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস’্য পরিচালকের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর (টেকনিশিয়ান) আব্দুল বারী ও রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কীটতত্বীয় কারিগর উম্মে হাবিবা। সংশিস্নষ্ট সূত্রটি বলেন এ সকল স’ানে জরম্নরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ অথবা প্রাথমিকভাবে বিস্নচিং পাউডার বা কেরসিন ছিটাতে হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক-স্বাস’্য গোপেন্দ্রনাথ আচার্য আরও বলেন, রাজশাহীতে এডিস মশার উপসি’তি আছে কি না, এ ব্যাপারে তার কাছে কী তথ্য আছে, সরকার থেকে জানতে চাইলে তিনি যাতে এডিস মশার ঘনত্ব, প্রজনন ড়্গেত্র ও বিসত্মার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিতে পারেন সে জন্য গত ১ আগস্ট তিনজন কীটতত্ববিদকে নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি গত ২ আগস্ট থেকে কাজ শুরম্ন করে।
গত পাঁচ দিনে তারা নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সন্দেহজনক জায়গাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তার মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফালুগনী ছাত্রীনিবাসের সামনে আইসক্রিমের বক্সে জমে থাকা পানিতে ও অধ্যড়্গের বাসভবনের সামনে নারকেলের মালায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তারা এডিস মশার লার্ভার উপসি’তি পান।
একইভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে পড়ে থাকা ভাঙা বেসিন ও ওয়ার্ডের পাঁচটি জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপসি’তি পাওয়া গেছে। এই দল নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে নগরের উপশহর এলাকার রংধনু টাওয়ারের পরিত্যক্ত পস্নাস্টিকের ড্রামে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে, একই এলাকার ২২৪ নম্বর বাড়িতের পরিত্যক্ত পাত্রে, তিন নম্বর সেক্টরের ১৬৪ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে ও পরিত্যক্ত কর্কশীটে ও ২০১ নম্বর বাড়ির ফুলের টবে এই লার্ভার উপসি’তি মিলেছে।
নগরীর আট নম্বর ওয়ার্ডের সিপাইপাড়া এলাকার মারম্নফের বাড়ির সামনের নারকেলের মালায়, একই এলাকার আরেকটি বাড়িতে ফুলের টবে, চার নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুরের মাসুদ রানার বাড়ির পস্নাস্টিকের পাত্রে, সেলিনা বেগমের বাড়ি ফুলের টবে ও মিলনের বাড়ির টায়ারে ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপসি’তি পাওয়া গেছে।
এছাড়া নগরীর শিরোইল এলাকা থেকে ভদ্রা পর্যনত্ম রাসত্মার পাশে হাঁটু সমান উুঁচ করে যেসব পাইপ পুঁতে রাখা হয়েছে, তার ভেতরে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। শিরোইল এলাকার ব্যবসায়ী সেলিমের টায়ারের দোকানের টায়ারে, নাসির হোসেনের দোকানের ব্যাটারির সেলে জমে থাকা পানি ও শুকুর আলীর নার্সারির মাটির পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতেও তৈরি হয়েছে এডিস মশার লার্ভা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যড়্গের বাসভবনের সামনে থেকে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যড়্গ নওশাদ আলী সাংবাদিকবৃন্দকে বলেন, মেডিকেল কলেজের অধ্যড়্গের বাসভবনটি গত আট দশ বছর ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। ওই বাসায় তিনি থাকেন না।
রাজশাহী মহানগর এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপসি’তি পাওয়া ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস’্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশে যখন এডিস মশা আছে তখন রাজশাহীতেও থাকতে পারে। তবে সেই মশাটি ডেঙ্গু আক্রানত্ম কি না অর্থাৎ মশাটি ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করছে কি না সেটাই কথা। তবে আক্রানত্ম হলে তা পরীড়্গার ব্যবস’া এখানে নেই। সেই জন্য তাদের উচিত মাঠপর্যায়ের তথ্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রকে হসত্মানত্মর করা। তাহলে মেয়র ওই মশার প্রজনন ড়্গেত্রগুলো ধ্বংস করার উদ্যোগ নিতে পারেন। বাড়িতে হলে তাদেরও সতর্ক করতে পারেন।