এফএনএস: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ২৯তম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যনত্ম বাদীসহ ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন শেখ, সোনাগাজী থানার এসআই ময়নাল হোসেন ও নুরম্নল করিম, পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ও ফেনী পিবিআইয়ের এসআই হায়দার আলী আকনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. শাহজাহান সাজু জানান, গতকাল মঙ্গলবার ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার (০৭ আগস্ট) পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পরিদর্শক সনেত্মাষ কুমার চাকমার সাক্ষ্যগ্রহণ জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
এ মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যনত্ম ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২৭ জুন থেকে এ মামলার সাক্ষ্য কার্যক্রম শুরম্ন হয়। শুরম্নর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করছেন। এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরম্ন হয়।
পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরম্নল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোসত্মফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরম্নল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার, শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন,
সোনাগাজী মাদ্রাসার দফতরি মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন, অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরম্নল করিম, মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরম্নল আফসার ফারম্নকী, মাদ্রাসাছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী, বিবি জাহেদা বেগম তামান্না, মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিসত্মা খানম, আয়া বেবী রাণী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার, কায়সার মাহমুদ, মাদ্রাসাছাত্রী ফাহমিদা আক্তার হামদুনা, নাসরিন সুলতানা, হল পরিদর্শক কবির আহম্মদ, তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর সিদ্দিক, স’ানীয় বাসিন্দা মো. আকবর হোসেন, ফজলুল করিম, রাবেয়া আক্তার, মোয়াজ্জেম হোসেন, জাফর ইকবাল, প্রফেসর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, হাফেজ মোবারক হোসেন, মো. ইব্রাহীম, রেজা মো.এনামুল হক, মো. নুর উদ্দিন, আকরাম হোসেন, এমদাদ হোসেন পিংকেল, মো. শাহজাহান, মো. আবুল কাশেম ও মো.সেলিনুর রেজা, জেল সুপার রফিকুল কাদের, ডেপুটি জেলার মনির হোসেন, কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা এবং মোশারেফ হোসেন ও মো. গোলাম মাওলা, ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন, রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী পরীক্ষক (রাসায়নিক) রোমানা আক্তার, পরীক্ষক মো. নজরম্নল ইসলাম, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল বাদী ও ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদসহ ৭৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাছাত্রী আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উলেস্নখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাসিত্ম দাবি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরম্নন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।