বিশেষ প্রতিনিধি : নগরীতে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যড়্গ, রাজশাহী চেম্বারের সাবেক প্রশাসক ঠিকাদার জিয়াউল হক টুকু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশীট) গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। আগামি ২২ সেপ্টেম্বর বদলি জামিন এবং মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরম্ন হবে।
গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট -৩ জাহিদুল ইসলাম মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকা-ের দীর্ঘ তিন বছর পর গত ১৭ জুন রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ( বোয়ালিয়া) অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানির জন্য ৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন। হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকায় এজাহার নামীয় ৪ জন আসামির বিরম্নদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদনত্মকারী কর্মকর্তা সিআইডি বোয়ালিয়া ইউনিট পুলিশ পরিদর্শক কাজী জাহেদুল হাফিজ এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার আসামি নয়ন ওরফে শাহেদ আলী ওরফে শাহেদুর রহমান (৪৭) এর গুলিতে টুকু নিহত হয়েছে বলে উলেস্নখ করা হয়েছে। তবে বলা হয়েছে আসামি নয়ন ভিকটিম টুকু কতৃক পিসত্মলের কারিশমা দেখার সময় উক্ত পিসত্মল হাতে নিয়ে ট্রিগারে চাপ দিলে টুকু গুলিবিদ্ধ হয়।
২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকায় ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গুলিবিদ্ধ হন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রশাসক আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক টুকু। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁর স্ত্রী নুরম্নন্নাহার লতা। টুকু হত্যার ঘটনায় চারজনকে আসামি করে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। এতে আসামি করা হয় ঢাকার সবুজবাগ থানা এলাকার এম এ নয়ন (৪৫), রাজশাহী মহানগরীর বোসপাড়া এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম তারিক (৪৮), নগরীর মহিষবাথান এলাকার রবিউল ইসলাম (৪৬) ও সুলতানাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন (৪৮)। টুকু মারা যাওয়ার পর পুলিশ রবিউল ও জসিমকে গ্রেফতার করে। পরে এ মামলার অপর আসামি এম এ নয়ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরা তিন জনই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু পলাতক রয়েছে মামলার ২ নম্বর আসামি তরিকুল ইসলাম তারিক। টুকুর পরিবারের দাবি টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় টুকুকে। অন্যদিকে আসামি পড়্গ থেকে দাবি করা হয় নিজ অস্ত্রের গুলিতে আত্মঘাতি হন টুকু।
টুকু হত্যা মামলাটি প্রথম তদনেত্মর দায়িত্ব পেয়েছিলেন বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদনত্ম) সেলিম বাদশা। পরে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচিত এ মামলা সিআইডিতে হসত্মানত্মর করে। এরপর তদনত্ম শুরম্ন করেন সিআইডির পরিদর্শক মাহবুব আলম। তিনি বদলি হলে মামলাটি তদনেত্মর দায়িত্ব পান সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক। পরবর্তীতে মামলাটি তদনত্ম করছেন সিআইডি’র পরিদর্শক জাহিদুল হাফিজ। তিনিই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামি রবিউল ও জসিমকে সহায়তাকারী হিসাবে উলেস্নখ করা হয়েছে।