দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ছে কিন্তু সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল হতে হচ্ছে রাজশাহী নগরবাসীকে। গত শনিবার রাতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা অন্ধকারে ডুবে যায়। ঘুমাতে না পেরে রাসত্মায় নেমে আসে নগরবাসী। প্রচ- গরমে তানোরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এমন বিদ্যুৎ বিপর্যয় কয়েক বছর দেখেনি কেউ।
শনিবার রাত ১০ টার পর হঠাৎ করে নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। একই সঙ্গে জেলার পাঁচটি উপজেলা বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পবার পলস্নী বিদ্যুতের সাব স্টেশনে একটি ফিডারের ট্রান্সফরমার বস্নাস্ট হয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারে আগুন ধরে যায়। সে আগুনে পাশে থাকা নগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান পাওয়ার সাপস্নাই কোম্পানী লিমিটেড নেসকোর হড়গ্রাম ও শালবাগান ফিডার ড়্গতিগ্রসত্ম হয়। ফলে এই দুই ফিডারের আওতাধীন নগরীর বিশাল এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একই কারণে পবা-তানোর-মোহনপুর-দুর্গাপুর উপজেলাও বিদ্যুৎ বিহীন থাকে ভোর চারটা পর্যনত্ম। তবে রোববার দিনেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়া দেখা গেছে যথারীতি। এমন অবস্থায় নিববচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাজশাহীতে চাহিদা মত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলেও গ্রাহকদের তা দেয়া সম্ভব হয় না মূলত সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতার কারণে। দফায় দফায় পুরানো লাইন সংষ্কারের কথা শোনা গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি অধরাই রয়ে গেছে। ফলে অব্যাহত কারিগরি ত্রম্নটি ও যন্ত্রপাতির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিম্নমানের তার ও যন্ত্রপাতির কারণেই সঞ্চালন লাইনে ঘনঘন বস্নাস্ট ও আগুন ধরার ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা যায়। সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতা আদৌ দূর হবে কি-না সে প্রশ্নও বড় হয়ে উঠেছে। কারণ ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে হরহামেশাই। এতে করে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। প্রচ- গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ছটফট করেও রেহাই নেই। শনিবার রাতে তানোরে এমন অস্থিরতায় রক্তচাপ বেড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর ফলাও প্রচার পেয়েছে পত্রিকায়। এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে, দফায় দফায় দামও বেড়েছে কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ। এটা কি এতটাই অসম্ভব, প্রশ্ন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।