এফএনএস: কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও হবিগঞ্জে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজার ও ময়মনসিংহে দু’জন করে চারজন এবং হবিগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ময়মনসিংহ শহরের চর পুলিয়ামারিতে জনি মিয়ার (২৬) বির্বদ্ধে মাদক আইনের মামলা রয়েছে থানায়। ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহ ঈদগাহ এলাকায় নিহত জহির্বল ইসলাম (২০) ধর্ষণ মামলার আসামি। হবিগঞ্জের চুনার্বঘাট উপজেলার ডেউয়াতলি কালিনগর এলাকায় সুলাইমান মিয়া (৩৫) একজন ডাকাত সর্দার বলে পুলিশের ভাষ্য। আর কক্সবাজারে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন; যারা মাদক বিক্রেতা বলে বিজিবির ভাষ্য। গত রোববার গভীর রাত ও গতকাল সোমবার ভোরে গোলাগুলির এসব ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল হোসেন আকন্দ বলেন, একদল মাদক চোরাকারবারি চর পুলিয়ামারি এলাকায় জড়ো হয়েছে খবর পেয়ে রাত সোয়া ১২ টার দিকে সেখানে অভিযানে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপসি’তি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী জনি মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস’ায় আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে বলে জানান ওসি। নিহত জনি ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকার মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তার বির্বদ্ধে মাদক চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে। এ অভিযানে দুই পুলিশ সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস’ল থেকে হেরোইন, ইয়াবা ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওসি শাহ কামালের ভাষ্য। অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিহত জহির্বল ইসলালের (২০) বাড়ি উপজেলার কৈয়ারচালা এলাকায়। এক তর্বণীকে ধর্ষণের মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন তিনি। ওসি বলেন, গত ৩ অগাস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী এলাকায় এক তর্বণীকে ধর্ষণ করে তিন বখাটে। গত রোববার তাদের বির্বদ্ধে মামলা করেন ওই তর্বণী। আসামিদের ধরতে রাতে ফুলবাড়িয়া কালাদহ ঈদগাহ এলাকায় অভিযানে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের উপসি’তি টের পেয়ে গুড়ি ছোড়ে আসামিরা। পুলিশও তখন আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে জহির্বল গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস’ায় জহির্বলকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের চুনার্বঘাটে বন্দুকযুদ্ধে এক ডাকাত নিহত ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ডেউয়াতলী কালিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে, হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের নাম সোলেমান মিয়া (৩০)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া এলাকার বাসিন্দা। চুনার্বঘাট থানার এসআই আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাতে কালিনগর এলাকায় ডাকাতির প্রস’তি নিচ্ছিল ডাকাত দল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়। এ সময় এক ডাকাতসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত ডাকাতকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাস’ল থেকে পাঁচ-ছয়টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়ছে। এর আগে, গত রোববার গভীর রাতে দেউন্দি চা বাগানের ডাক্তার বাংলোতে দুর্ধর্‌ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রথমে দারোয়ান রবি মুন্ডা ও সন্তোষকে জিম্মি করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে, বাংলোতে থাকা ডা. অনিমেষ গুলদার (৪৫), স্ত্রী সরমিস্ট কর্মকার ও চার বছরের ছেলে অরিত্র গুলদারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। খবর পেয়ে সিলেট বিভাগের ডিআইজি কামর্বল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উলৱাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহমেদ, চুনার্বঘাট-মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন ও চুনার্বঘাট থানার ওসি নাজমুল হক ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছেন। এর আগেও চুনার্বঘাটে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটলে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
কক্সবাজার: টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজন নিহত হয়েছে; যারা মাদক বিক্রেতা বলে বিজিবির ভাষ্য। ঘটনাস’ল থেকে উদ্ধার হয়েছে ইয়াবা ও অস্ত্র। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে বিজিবির টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান জানান। নিহতরা হলেন উখিয়ার কুতুপালংয়ের ২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-বৱকের হায়দার শরীফের ছেলে নুর্বল ইসলাম (২৭) ও হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াবাজার সাতঘরিয়া পাড়ার জলিল আহমদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩০)। বিজিবি বলছে, নিহতরা ‘সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারি চক্রের’ সদস্য ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তাদের বির্বদ্ধে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। ফয়সাল বলেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান আসার খবরে বিজিবি সমস্যারা ঘটনাস’লে অবস’ান নেয়। একপর্যায়ে মিয়ানমার থেকে আসা ২/৩ জন লোক এবং নদীর এ পাড়ে অবস’ান করা কয়েকজন লোক পরস্পরকে ছোট বস্তা ভর্তি কিছু একটা হস্তান্তর করে। এ সময় তাদের থামার জন্য সংকেত দেওয়া হলে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে ঘটনাস’ল থেকে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস’ায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ঘটনাস’ল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, দুইটি দেশীয় বন্দুক, চারটি গুলি ও দুইটি কিরিচ দা উদ্ধার করা হয় বলে বিজিবির এ কর্মকর্তার ভাষ্য।