তৈয়বুর রহমান: ডেঙ্গুর কবলে পড়েছে দেশবাসী। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না ডেঙ্গু জ্বর। সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বর এখন ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৬৫ জন। এ রোগে অভিজাত লোকজন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের শিড়্গার্থী ও হাসপাতালের চিকিৎসক পর্যনত্ম মারা গেছেন। এ মুহূর্তে দরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দের অংশগ্রহণে এক সভায় রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধানত্ম নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন পত্রিকার তথ্য মতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যা ২৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের তথ্য মতে দেশে ৬৪ হাজার রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতি দিনই মানুষ মারা যাচ্ছে। ঢাকাতে ডেঙ্গু এখন চরম আকার ধারণ করেছে। কয়েক দিন আগে ঢাকার হাসপাতালে একই দিনে ৬৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে ১৮ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভঙ করেছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে ৬২ জেলায় মৃতের সংখ্যা ৫৫-তে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহীতেও বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এ পর্যনত্ম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১১১ জন। দেশে চলছে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
এখনও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগী ভর্তি হচ্ছে। রাজশাহীতে এডিস মশা সম্পর্কে সচেতনতামূলক সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কথা শুনা যাচ্ছে। হাক-ডাক করে যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশা নির্মূলের অভিযান চলছে বলা হচ্ছে কিন্তু বাসত্মবে কতটুকু হচ্ছে তা মনিটরিং করার প্রয়োজন রয়েছে। ঝোঁপ,জঙ্গল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এটি সিটি কর্পোরেশনের অত্যাবশ্যকীয় কাজের একটি। প্রতিনিয়ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ না হলে, আবদ্ধ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে এতে মশা-মাছি জন্মাবেই। ফলে ডেঙ্গু হবে, ম্যালেরিয়া হবে, চিকনগুণিয়া হবে। আরো কঠিন, জটিল ও ভাইরাসজনিত রোগ হবে। বিশেষজ্ঞদের কথা হচ্ছে শুধু ঝোঁপ জঙ্গল পরিষ্কার নয়, বাড়ির ছাদে কিম্বা আশপাশে টবে, ফাটা ছিড়া টায়ার টিউবে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি পরিষ্কার করা দরকার। কারণ এডিস মশা ঝোঁপে ঝাড়ে থাকে না, থাকে বসত বাড়ির আশে পাশে। বংশ বিসত্মার করে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে।
ইতোমধ্যে যে সব ডেঙ্গু জ্বরের রোগী রাজশাহীর হাসপাতালে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ঢাকা থেকে আগত রোগী। ঢাকায় ব্যাপক হারে মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম হচ্ছেন। এ থেকে রড়্গার জন্য অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন। যারা আসেেছন তাদের অনেকেই এডিস মশার জীবাণু নিয়ে আসছেন। তারা ঢাকার বাইরে এসেও ডেঙ্গু থেকে রড়্গা পাচ্ছেন না। তাদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের থেকেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে ।
রাসিক কর্তৃক পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কোনো কোনো ওয়ার্ডে সত্যিকারভাবে পরিচালিত হলেও অধিকাংশ ওয়ার্ডে পূর্বের ধারাবাহিকতা রড়্গা করছে মাত্র। নগরীর নিন্মাঞ্চলের অধিকাংশ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ঝোঁপ-জঙ্গল ও ছোট ছোট গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এডিস মশা ঝোঁপ-ঝাড়ে না, থাকলেও বাড়ির আশপাশে, বাড়ির ছাদে গাছের টবে, নতুন তৈরি দালানের ভাঙা-চুরা ঘরে, বাড়ির মধ্যে পড়ে থাকা নারকেলের খোলে, পড়ে থাকা টায়ারে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। তাই শুধু বাড়ির আশপাশের ঝোঁপ-ঝাড় ও ময়লা আবর্জনায় জমে থাকা পচা পানি পরিষ্কারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালে সমস্যার সমাধান হবে না। জমে থাকা বাড়ির ভেতরে, আশপাশে বা ছাদের সামান্য পরিষ্কার পানিও পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই থেকে যাবে।
দীর্ঘ দিন থেকে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ রাজশাহীর মানুষ। মশক নিধন অভিযানের তাগাদা দেয়া হয়েছিল বারবার। এ সম্পর্কে ১৮ জুলাই দৈনিক সোনালী সংবাদের এক প্রতিবেদনে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উলেস্নখ করে এ সম্পর্কে আগে ভাগেই সাবধান করা হয়েছিল। মশক নিধন অভিযান চালানো এবং বর্ষাকালে নিম্নাঞ্চল পরিষ্কার পরিছন্নতা অভিযান শুরম্নর তাগিদও দেয়া হয়েছিল। অথচ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী ঐ সময় পর্যনত্ম মশক নিধনের কোন পরিকল্পনা নেয়া হয়নি। এতে রাসিক কর্তৃপড়্গ কোন কর্ণপাত করেননি। আগে থেকে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালানো হলে আজ আর রাজশাহীর ডেঙ্গু নিয়ে দুশ্চিনত্মা করতে হতো না। পরিচ্ছন্নতা বিষয় নিয়ে এতো ভাবতে হতো না। সে প্রতিবেদনে ডেঙ্গুতে যে কোন সময় রাজশাহীর মানুষর আক্রানত্ম হতে পারে বলে সাবধান করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল রাজশাহীতে যে মশার দাপট তা দমন করা না হলে ভবিষ্যতে যে এডিস মশা জন্ম নিবে না বা রাজশাহীর মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হবে না কে বলতে পারে।
ডেঙ্গু কোন নতুন রোগ নয়। সুদূর পাকিসত্মান আমলেও ডেঙ্গু জ্বর ছিল। তবে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত: ২০০০ সালে সামনে আসে। আর শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের অনেক দেশেই ডেঙ্গু জ্বরে মানুষ আক্রানত্ম হচ্ছে। এতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। এতে আক্রানত্ম হয়ে ঐ সব দেশে অনেক লোক মারাও যাচ্ছেন। ভারত, আফ্রিকার ব্রাজিল, পাকিসত্মান, চীন , ভিয়েতনামসহ অনেক দেশেই এ রোগে আক্রানত্ম্‌ হচ্ছে মানুষ। বিদেশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ সম্পর্কে রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। অতএব আতঙ্ক নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত পরিকল্পনা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার।