চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: ঈদের বাকি আর মাত্র ৬ দিন। গরুর চাহিদা বেশি থাকায় জমে উঠতে শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুহাটগুলো। এবার হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর দেখা মিলেছে কম। এই অজুহাতে দেশি গরু চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই পছন্দের গরু কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। হাটের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছেন, ভারতীয় গরু না আসলেও ঈদে গরুর কোন সংকট হবে না।
প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে, দেশের কোরবানির পশুর একটি বড় অংশ সরবরাহ হয় সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। খাটালগুলো বন্ধ থাকায় সীমান্ত পথ পেরিয়ে আসছে না ভারতীয় গরু। এর প্রভাব পড়েছে পশুর হাটগুলোতে।
খামারিরা এবার স’ানীয়ভাবে গরু পালন করেছেন অনেক বেশি। এতে হাটগুলোতে দেখা গেছে গরুর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। আর বাজারে ভারতীয় গরু কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে দেশি গরুর। বিক্রেতারা বলছেন, এজন্য দামটা একটু বেশি। তবে দাম বেশি হওয়ায় সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা। স’ানীয় খামারি কামাল উদ্দিন জানান, এবার হাটগুলোতে দেশি গরুর দাম পাচ্ছে খামারিরা।
এদিকে সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকায় দেশি গরুর দাম বেশি হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। ছোট গরু এবছর ৫৫ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, মাঝারি গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ও বড় গরু ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেটা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য কষ্টকর। সরেজমিনে হাট ঘুরে এ্‌ই প্রতিবেদককে এমনটাই জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা। চলতি বছর ভারত থেকে গরু আমদানি কম হওয়ায় বাজারে দেশি গরুই কিনছেন ক্রেতারা। তবে ভারত থেকে বিট/খাটাল হয়ে যেসব গরু আসছে তা সরাসরি ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন মোকামে চলে যাচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কাস্টমস, এক্সাইজ ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার এইচ এম বাশেত বলেন, চলতি সালের জুলাই পর্যন্ত ৫১ হাজার ৬ শ ৪২টি গরু-মহিষ থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এবছর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৬টি কোরবানির পশুর হাট বসেছে। উলেৱখযোগ্য হাটগুলো হচ্ছে, সদর উপজেলার বটতলা ও রামচন্দ্রপুর হাট, শিবগঞ্জ উপজেলার তর্তিপুর, খাসের হাট ও কানসাট হাট, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর হাট, ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ী হাট ও নাচোল উপজেলার সোনাইচ-ী হাট।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী বলেন, জেলায় এবার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫ শ ৭০টি গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় এবার কোরবানিতে গরুর কোন সংকট হবে না। তিনি বলেন, জেলার কোরবানির হাটগুলোতে ৮টি প্রাণিসম্পদ মেডিকেল দল গঠন করা হয়েছে। এ সকল দল নির্ধারিত দিনে পশুর হাটগুলোতে স’ানীয় প্রশাসন ও হাট ইজারাদারদের সাথে রোগাক্রান্ত গরু শনাক্তকরণে কাজ করছে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির জন্য ভারতীয় কোন গরুর প্রয়োজন নেই। তাছাড়া কোরবানিতে দেশের মানুষের প্রথম পচ্ছন্দই থাকে দেশি গরুর।
অপরদিকে পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাট উপলৰে পুলিশ প্রশাসনের পৰ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা ব্যবস’া গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের টহল দল নিয়োজিত আছে হাটগুলোতে। জাল টাকার লেনদেনে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। এছাড়া হাটগুলোতে সোনালী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক জাল টাকা শনাক্তকরণে মেশিন স’াপন করেছে। তিনি আরো বলেন, মোকামগুলোতে ট্রাকযোগে গরু নিয়ে যাবার সময় পথে পথে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে ট্রাকগুলোতে ব্যানার টাঙানো থাকবে।