স্টাফ রিপোর্টার: গেল কয়েক বছরের মধ্যে এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখলো রাজশাহীবাসী। শনিবার রাত ১০টার পর পরই চলে যায় বিদ্যুৎ। ফলে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় রাজশাহী মহানগরী ও জেলার পাঁচটি উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা। প্রচ- গরমে বিপর্যসত্ম রাত কাটান মানুষ।
এই গরমের মধ্যে তানোর উপজেলায় মধুসুধন দাস কঠু (৫৬) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে তানোর পৌরসভার গোলস্নাপাড়া মহলস্নায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। তানোরে ভোর ৬টা পর্যনত্ম বিদ্যুৎ ছিল না। গতকাল রোববারও দিনের নানা সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায়।
মধুসুদন দাসের ছেলে আনন্দ দাস বলেন, সারারাত বিদ্যুৎ ছিল না। প্রচ- গরমে বাবা ঘরের বারান্দায় শুয়ে ছিলেন। রাত আড়াইটার দিক গরমে বাবার প্রেসার উঠে যায়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বাবাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাই। তখন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎক বলেন অতিরিক্ত গরমে তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি এবং নর্দান পাওয়ার সাপস্নাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) বিদ্যুৎ বিপণন ও সরবরাহ করে থাকে। এর মধ্যে জেলার পবা, তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর ও দুর্গাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ দেয় পলস্নী বিদ্যুৎ সমিতি। আর রাজশাহী মহানগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেসকো। শনিবার রাতে দুই সংস্থার বিদ্যুৎ স্টেশনেই ত্রম্নটি দেখা দেয়।
নেসকোর ডিভিশন-৪ এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ জানান, শনিবার রাত ১০টার পর জেলার পবায় পলস্নী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনে একটি ফিডার পুড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে নেসকোতেও। পলস্নী বিদ্যুতের ফিডার পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেসকোর রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট, শালবাগান, এয়ারপোর্ট ও কাটাখালি সাব-স্টেশনের ফিডার পুড়ে যায়। এতে রাজশাহী মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাতেই কাজ শুরম্ন করে সকালের মধ্যে একে একে সবগুলো সাব-স্টেশন চালু করা হয়।
একইভাবে রাতে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেও পলস্নী বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় গ্রামাঞ্চল। প্রচ- গরমে যন্ত্রণায় পড়েন মানুষ। নির্ঘুম রাত কাটে অনেকের। এরই মধ্যে প্রচ- গরমে স্ট্রোক করে মারা যান তানোরের মধুসুধন দাস কঠু। পরে গতকাল ভোরে পলস্নী বিদ্যুতের যান্ত্রিক ত্রম্নটি মেরামত করা হলেও বিদ্যুতের বিভ্রাট ছিল দিনভর। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভুগতে হয়েছে নগরবাসিকে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পলস্নী বিদ্যুতের কেউ গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি।