কাজী নাজমুল ইসলাম: ঈদুল আজহার আর বাকি ৭ দিন। শেষ সময়ে এসে রাজশাহীর পশুহাটগুলো জমে উঠেছে। স্থানীয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরম্ন-ছাগলের আমদানি প্রচুর, তবে বেচাকেনা এখনও কম।
রাজশাহীতে কোরবানির বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর সিটি হাট, নওহাটা, কাটাখালি, মহিষালবাড়ী, কাকনহাট, মচমইল, কেশরহাট, বানেশ্বর হাট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই হাটগুলোতে ইতিমধ্যে প্রচুর পরিমাণে কোরবানির পশু উঠতে শুরম্ন করেছে। তবে বেচাকেনা সেভাবে শুরম্ন হয়নি। অন্য হাটগুলো জমিয়ে তুলতে হাট ইজারাদাররা মাইকিং- পোস্টারিং শুরম্ন করেছেন।
পবার বড়গাছির ইটাঘাটি গ্রামের খামারি আব্দুর রশিদ গতকাল সিটি পশুহাটে ১টি গরম্ন বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। এখনও তার খামারে আরো ৪টি গরম্ন রয়েছে। তিনি বলেন, তেমন ক্রেতা না থাকায় লাভ ছাড়াই গরম্ন বিক্রি করতে হয়েছে। ক্রেতা কম থাকায় গতকাল অনেকেই গরম্ন বিক্রি করতে পারেননি।
সিটি হাটের গরম্ন ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার দর হিসাবে কোরবানির গরম্নর দাম কমই রয়েছে। তারা বলেন, ছোট আকৃতির গরম্ন এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরম্নর দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং বড় গরম্ন ৯০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, বর্তমানে ঈদ উপলড়্গে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির গরম্ন আসতে শুরম্ন করেছে। আমদানি প্রচুর হলেও বেচাকেনা জমে ওঠেনি। বেশিরভাগ ক্রেতা হাটে এসে দরদাম হাঁকিয়ে কোরবানির বাজার বোঝার চেষ্টা করছেন। যাদের বাসায় গরম্ন রাখার জায়গা আছে কেবল তারাই এখন দামে সুবিধা হলে গরম্ন কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সিটি হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপাত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনী। হাটে পশু চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্যও মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকও এ ব্যাপারে কাজ করছে। আজ থেকে সিটি হাটে প্রতিদিনই কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে বলে জানান তিনি।
সংশিস্নষ্টরা জানান, গতবছর রাজশাহীতে চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশুর পরিমাণ বেশি ছিল। যে কারণে শেষের দিকে এসে অনেক খামারিকে লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। এবারও এখানে চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশু বেশি থাকায় অনেক খামারি আগেই পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন। তবে এবার দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অনিত্মম কুমার সরকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় এবার ১৭ হাজার ৭শ খামার রয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৪ কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরম্ন ৭৮ হাজার ১৩, মহিষ দুই হাজার ১৭৫, ছাগল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮২৪ টি। এরমধ্যে গরম্ন ৫৮ হাজার ৬১৩ টি, ছাগল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০ টি, ভেড়া ১২ হাজার ৫শ’ ও মহিষ ২ হাজার। এখানে পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫০টি। গতবছর এখানে স্থানীয় খামারের ৩ লাখের কিছু কম পশু কোরবানি হয়েছে। এবারও এখানে স্থানীয় খামারের পশু দিয়েই কোরবানি করা যাবে বলে জানান তিনি।