এফএনএস: ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে বরিশালের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস’াটির পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।
দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশান্ত কুমার বণিক চট্টগ্রাম কারাগারের যখন জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছিলেন তখন এই কারাগারের ডিআইজি ছিলেন পার্থ গোপাল বণিক। সেই সময় তাদের বির্বদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। এ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গত ২৮ জুলাই ধানম-ির নর্থ রোডের (ভূতেরগলি) ২৭-২৮/১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করার পাশাপাশি পার্থকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এ ঘটনায় পরদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর পার্থকে কারাগারে পাঠায় ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত। এরপর ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পার্থকে সাময়িক বহিষ্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করে। মামলায় পার্থের বির্বদ্ধে জব্দ করা টাকা নিজের দখলে নিয়ে অবৈধ পন’ায় অর্জিত অর্থের অবস’ান গোপন ও পাচারের উদ্দেশ্যে নিজ আবাসিক বাসায় লুকিয়ে রাখায় দ-বিধির ১৬১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং আইনের ৪(২) ধারায় অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ফেনসিডিলসহ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন থেকে গ্রেপ্তার হন চট্টগ্রামের তখনকার জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। সে সময় তিনি গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ঘুষ বাণিজ্যের পেছনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সেখানকার তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক ও জ্যেষ্ঠ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকসহ আরও অনেকে নাম বলেন।