বিশুদ্ধ পানির প্রতিশ্র্বতি দিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন থেকে আলাদা হয়ে ২০১০ সালে যাত্রা শুর্ব রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপৰ, ওয়াসার। কিন’ এখন পর্যন্ত মানসম্মত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি ওয়াসা। ফলে স্বাস’্য ঝুঁকিতে দিন কাটছে রাজশাহীবাসীর।
২০০৫ সালে জনস্বাস’্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ২০১৬ সালে একটি বেসরকারি গবেষণায় ওয়াসার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ ও হার্ডনেসের উপসি’তি পাওয়া গেছে যা স্বাসে’্যর জন্য ৰতিকারক। এই পানি ব্যবহারে মাথার চুল আঁঠালো হয়, জামা-কাপড় নষ্ট হয়, গৃহসামগ্রীতে দাগ পড়ে যায়। এসব মেনে নিয়েই ওয়াসার বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে নগরবাসী।
তবে ওয়াসার পানিতে আস’া না থাকায় মানুষ খাবার জন্য নলকূপের পানি ব্যবহার করে। অনেকেই বাড়ির ভেতরে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়েছেন নিজ উদ্যোগেই। এতে করে নগরীতে ভূ-গর্ভস’ পানির ব্যবহার কমছে না। এমনিতেই নগরীতে সরবরাহকৃত পানির ৯৪ ভাগই ভূ-গর্ভস’ পানি যা ১০৩ টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে তোলা হয়। ফলে ভূ-গর্ভস’ পানির স্তর ৰতিগ্রস’ হয়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া বাড়ছে।
নগরীতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ লাইন নেটওয়ার্ক ৭১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এই পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয় সাড়ে নয় কোটি লিটার পানি। যদিও নগরীর সাড়ে ৫ লাখ মানুষের দৈনিক পানির চাহিদা ১১ কোটি ৩৩ লাখ লিটার। সরবরাহকৃত পানি মানসম্পন্ন তো নয়ই, মাঝে মধ্যেই কালো ময়লা ও দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগও মোটেই নতুন নয়।
বিষয়টি অস্বীকার করেনি রাজশাহী ওয়াসা কর্তৃপৰও। পানি বিশুদ্ধকরণ বাজেট খুবই কম বলে জানিয়েছেন তারা। তার ওপর পাইপ লাইনগুলো বহু বছরের পুরানো। তাই লিকেজ থাকাই স্বাভাবিক। অনেক জায়গাতেই মরিচা বা জং থাকার কথা স্বীকার করে পানির মান ঠিক রাখা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন সংশিৱষ্টরা।
এ অবস’ায় নগরবাসীর বিশুদ্ধ ও মানসম্পন্ন পানির আশা দূরাশাই থেকে যাচ্ছে। ওয়াসার পানি কবে মানসম্পন্ন হবে সেটা কেউ বলতে পারে না।