স্টাফ রিপোর্টার: বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও দালালদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজশাহীতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মানুষ। সমপ্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালসহ মহানগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে একদল ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি হাজির হন। তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যনত্ম প্রত্যেক ডাক্তারের কড়্গের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। ডাক্তারের কড়্গ থেকে কোন রোগী বের হলেই তারা একের পর এক পেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে টানাহেঁচড়া এবং ছবি তোলা শুরম্ন করেন। উদ্দেশ্য সেখানে তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখা হয়েছে কিনা জানা। এছাড়াও কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে যখন-তখন তারা রামেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের বেডে থাকা ডাক্তারের লেখা প্রেসক্রিপশন যাচাই-বাছাই করেন।
এদিকে, লক্ষ্মীপুর মোড়ে ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় রোগীর স্বজনদের রাসত্মায় দাঁড় করিয়ে ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন চেক করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যনত্ম গরম্নর হাটের মত ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা পাহারা বসান হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে। তাদের এ ধরনের কর্মকা- উেদ্বিগ্ন রোগী ও অভিভাবক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তারা এ ধরনের আচরণ করবেনই বা না কেন ? অসাধু কিছু ডাক্তারের সঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কমিশনভিত্তিক চুক্তি রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, মহানগরীর বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তারের চেম্বারে কিছু কিছু অসাধু ডাক্তার বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের নাম লেখা সীল ব্যবহার করেন। এতে করে চিকিৎসা সেবা বিঘ্ন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। একদিকে ওষুধ প্রতিনিধিদের উৎপাত, অপরদিকে দালালদের প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। এ কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজশাহীতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে না পারলে এই উন্নয়ন এক সময় মুখ থুবড়ে পড়বে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজন আরও জানান, সমপ্রতি রামেক হাসপাতালে দালালরা নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বহির্বিভাগে প্রতিদিন দালালদের হাতে প্রতারিত হচ্ছেন কোন না কোন রোগী। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে আনসারসহ অন্যান্য সিকিউরিটি গার্ড থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিনই ওয়ার্ডগুলোতে দালাল ও ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের রয়েছে অবাধে চলাফেরা। হাসপাতাল কর্তৃপড়্গের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে সোমবার ও বুধবার ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা হাসপাতাল ভিজিট করতে পারবেন। কিন্তু সে নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রতিদিনই তারা হাসপাতালে প্রবেশ করে থাকেন।
এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার সাইফুল ইসলাম বলেন, ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা প্রতিদিন হাসপাতালে প্রবেশ করেন না। তবে এ রকম হলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।