রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) থেকে: কোরবানি উপলৰে নওগাঁয় পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। হাটগুলোতে গরু উঠছে প্রচুর, দামও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। ব্যাপারি, ক্রেতা ও ইজাদারসহ সংশিৱষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখন পর্যন্ত গরুর দাম তুলনামূলক কম ও সহনীয়।
তবে খামারি ও গৃহস’রা কেউ কেউ লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, হাটগুলোতে প্রচুর গরু আমদানি হচ্ছে। স’ানীয় লোকজন কোরবানি দেয়ার জন্য গরু কিনলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বড় বড় বাজারের ব্যাপারি ও গরুব্যবসায়ীরা এখন পর্যন্ত সেভাবে গরু কিনছেন না। ফলে বেচা বিক্রি গত বছরগুলোর তুলনায় এবার কম হওয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে কম দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এ অবস’া থাকলে লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হবে কিংবা অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যাবে।
নিয়ামতপুর ও এর আশপাশ মিলে ছোটবড়সহ বেশ কিছু হাট রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট, নাচোলের সোনাইচ-ী হাট, মান্দার চৌবাড়িয়া হাট, সতিহাট, মহাদেবপুরের মাতাজী হাট, পোরশার মর্শিদপুর ও সাপাহারের দিঘিরহাট পশু কেনাবেচার সবচেয়ে বড় হাট। গত এক সপ্তাহ থেকে ছাতড়া, চৌবাড়িয়া, সোনাউচ-ী ও মর্শিদপুর পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলোতে গরুর আমদানি প্রচুর। জমে উঠেছে বেচাকেনা। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে নিয়ামতপুরের ছাতড়া বাজারে ঢুকতেই দেখা যায়, ভুটভুটি, নছিমন ও ট্রাকে করে গরু আসছে। এই হাটে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা মূল্যের গরু বিক্রি হচ্ছে। হাটের নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে সড়ক ও পাশের কৃষি জমির মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এই হাট। ছাতড়া পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম বলেন, গত বারের তুলনায় এবার হাটে গরুর আমদানি বেশি। হাটে এবার ভারতীয় গরু নেই বললেই চলে, তারপরেও প্রচুর গরু। দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পৰই দাম নিয়ে সন’ষ্ট। তবে আমদানির তুলনায় বেচাবিক্রি কিছুটা কম। আগামি হাটে ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা গরু কিনলে বেচাবিক্রি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাটের গরুর হাটের পাশেই ছাগলের হাট। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জমজমাট বেচাকেনা চলছে।
বুধবার সোনাইচ-ী হাটে উপজেলার সিরাজপুর গ্রাম থেকে গ-ু কিনতে এসেছিলেন প্রাথমিকের শিৰক সফিকুল ইসলাম। একটি গরু কিনে তার ছাড় করছিলেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪৫ হাজার টাকায় এই মাঝারি আকারের বকনা কিনলাম। গতবার এ ধরণের গর্ব ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে তুলনায় এবার দাম কিছুটা কমই রয়েছে। শুক্রবার চৌবাড়িয় হাটে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা থেকে নিজের খামারে পালন করা ১০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন শরিফুল ইসলাম নামের এক খামারি। তিনি বলেন, বড় আকৃতির ১০টি গরু এনেছি। প্রতিটা গরুর দাম আশা করেছিলাম ৯০ থেকে ১ লাখ টাকা করে হবে। কিন্তু দাম বলছে ৮০ থেকে ৮২ হাজার টাকা। এবার হাটে ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এখনও তেমনভাবে আসেনি। এজন্য দাম উঠছে না। শেষ হাট পর্যন্ত এ রকম দাম থাকলে এবার গরু বিক্রি করে লাভ হবে না বলে তিনি জানান।