এফএনএস: আসন্ন ঈদুল আজহার আগাম টিকেট বিক্রির শেষ দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকেট প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। গতকাল শুক্রবার বিক্রি করা হচ্ছে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ১১ আগস্টের টিকেট। বেশির ভাগ কর্মজীবীরা ঈদের আগের দিনই বাড়ি ফিরতে চান। এজন্য গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস’ান করছে হাজারো মানুষ।
এদিকে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় শুর্ব হয়েছে টিকেট বিক্রি। অনেকে দীর্ঘ ১০-১২ ঘণ্টা অপেক্ষার পর হাতে টিকেট পেয়ে মহাখুশি। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তিনটি স্পেশালসহ ১৬টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার কাউন্টার ও অনলাইন মিলে ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের ২৭ হাজার ৮৫৫ টিকেট বিক্রি করা হয়। রেলওয়ের তথ্য মতে, টিকেট বিক্রির পঞ্চম দিন গতকাল শুক্রবার ১১ আগস্টের অগ্রিম টিকেট দেওয়া হচ্ছে। একজন ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কিনতে পারবেন। টিকেট প্রত্যাশী সাদিক বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টায় স্টেশনে এসে লাইনেই দাঁড়িয়েছি। অপেক্ষা যেন শেষ হচ্ছে না। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা রোধে কাজ করছে আনসার, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, সুষ্ঠুভাবে টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। অনিয়ম রোধে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
বাসের অগ্রিম টিকেট কাটতে ছিল না বাড়তি ভিড় : আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য অগ্রিম টিকেট বিক্রির অষ্টম দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। গত ২৬ জুলাই থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুর্ব হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনালে টিকেট বিক্রি শুর্ব হয়। যাত্রীরা অনেকেই তাদের টিকেট সংগ্রহ করার জন্য গাবতলির বিভিন্ন কাউন্টারে ভিড় জমিয়েছেন। তবে এবার সড়কপথে যাত্রায় টিকেট কিনতে বাড়তি ভিড় দেখা যায়নি। অনেকেই গাবতলিতে না এসে অনলাইনে টিকেট কিনছেন। বিভিন্ন কাউন্টারের কর্মীরা বলেন, আগামি ৮ ও ১০ আগস্টের টিকিটের জন্য যাত্রীরা আসছে। কেউ কেউ ১০ তারিখের টিকেটও কিনছেন। তবে অগ্রিম টিকেট বিক্রির প্রথম দিন যাত্রীদের চাপ থাকলেও এখন তেমন কোনো চাপ নেই। অনেক যাত্রী আগেভাগেই বাড়ি চলে যাওয়ায় ঈদের আগে খুব একটা ভিড় নেই সড়কপথে।
সংশিৱষ্টরা বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহায় প্রায় নয় দিনের ছুটি বন্ধ থাকবে। এ কারণে যাত্রীরা সুবিধাজনক উপায়ে বিভিন্ন সময়ে ভিড় এড়িয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।