শিরিন সুলতানা কেয়া: সরকারের ভালনারেবল গ্রম্নপ ফিডিং (ভিজিএফ) চাল পাচ্ছে রাজশাহীর প্রায় দেড় লাখ পরিবার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১৫ কেজি করে চাল পাবে পরিবারগুলো।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন দপ্তরের তথ্য মতে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭ জন। তাদের জন্য বরাদ্দ চালের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৫ দশমিক ৩৫৬ মেট্‌্িরক টন। এরই মধ্যে এসব চাল উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। গেল সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল বিতরণ শুরম্নও হয়েছে। ঈদের আগেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনবার্সন দপ্তর জানিয়েছে, গোদাগাড়ী উপজেলায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৮১ জন। বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ২৮৩ দশমিক ২১৫ মেট্‌্িরক টন। তানোরে উপকারভোগী ১০ হাজার ৬৫৭ জন। বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ১৫৯ দশমিক ৮৪০ মেট্‌্িরক টন। বাগমারার ১৭ হাজার ৫০৯ জন উপকারভোগীর জন্য বরাদ্দ ২৬৩ দশমিক ০৮৫ মেট্‌্িরক টন চাল। বাঘার ৮ হাজার ১০০ জন উপকারভোগী পাচ্ছে ১৩২ মেট্‌্িরক টন চাল।
এছাড়া পুঠিয়ায়র ৯ হাজার ৬৯৫ জনের বিপরীতে ১৪৫ দশমিক ৪২৫ মেট্‌্িরক টন, মোহনপুরের ৭ হাজার ৭৮৩ জনের বিপরীতে ১১৬ দশমিক ৭৪৫ মেট্‌্িরক টন, চারঘাটের ১৪ হাজার ৩৪৭ জনের জন্য ২১৫ দশমিক ২০৫ মেট্‌্িরক টন, দুর্গাপুরের ৯ হাজার ৭৪৮ জনের জন্য ১৪৬ দশমিক ২২০ মেট্‌্িরক টন এবং পবার ৭ হাজার ৫০৮ জন উপকারভোগীর জন্য ১১২ দশমিক ৬২০ মেট্‌্িরক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে পৌরসভাগুলোর হিসাব নেই।
রাজশাহীর ৯ উপজেলার ১৪টি পৌরসভায় উপকারভোগী ৪৯ হাজার ২৯৩টি পরিবার। এর বিপরীতে বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৭৩৯ দশমিক ৩৯০ মেট্‌্িরক টন। পৌরসভাগুলোর মধ্যে তালিকার ‘ক’ ক্যাটাগরির গোদাগাড়ী, তাহেরপুর, নওহাটা, কাঁকনহাট ও বাঘায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৬২১ জন । প্রতিটি পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ ৬৯ দশমিক ৩২৫ মেট্‌্িরক টন।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে ‘খ’ ক্যাটাগরিতে থাকা মুন্ডুমালা, কেশরহাট, চারঘাট, আড়ানী, ভবানীগঞ্জ, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও কাটাখালিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৮১ জন। প্রতিটি পৌরসভায় বরাদ্দ ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্‌্িরক টন চাল। আর তালিকার ‘গ’ ক্যাটাগরিতে থাকা তানোর পৌরসভায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৪০ জন। এখানে বরাদ্দ করা চালের পরিমাণ ২৩ দশমিক ১০০ মেট্‌্িরক টন।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি উপজেলায় ভিজিএফ কমিটি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে এই কমিটি উপকারভোগীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আদমশুমারি-২০১১ এর জনসংখ্যা অনুযায়ী বিভাজন করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগী রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রসত্ম দুঃস্থ ও অতিদরিদ্রকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য এবার সরকারের পড়্গ থেকে নির্দেশনা ছিল। সরকারের বেশকিছু শর্ত পূরণ করে এমন পরিবারগুলোকেই দেয়া হচ্ছে এই খাদ্য সহায়তা।
শর্তগুলো হলো- যাদের ভিটাবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই, যে পরিবার দিনমজুরের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যে পরিবারে নারী শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল, যে পরিবারে উপার্জনক্ষম পূর্ণ বয়স্ক কোনো পুরম্নষ সদস্য নেই, যে পরিবারে স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়, যে পরিবারে উপার্জনশীল কোনো সম্পদ নেই, যে পরিবারের প্রধান স্বামী পরিত্যক্তা, যে পরিবারের প্রধান অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, যে পরিবারের প্রধান অস্বচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী, যে পরিবার কোনো ড়্গুদ্রঋণ পায়নি, যে পরিবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে চরম খাদ্য বা অর্থ সঙ্কটে পড়েছে এবং যে পরিবারের সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দু’বেলা খাবার পায় না।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, উপকারভোগী নির্বাচনের ড়্গেত্রে বরাবরের মতো এবারও নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। খেয়াল করা হয়েছে যেন কোনো পরিবারের একাধিক ব্যক্তি তালিকায় অনত্মর্ভুক্ত না হয়। ফলে ঈদে কেবল দুস্থরাই চাল পাচ্ছে।
ত্রাণ কর্মকর্তা জানান, বরাদ্দপত্রের শর্ত অনুযায়ী, ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোকে ঈদের আগেই চাল বিতরণ কার্যক্রম শেষ করতে হবে। সঠিকভাবে চাল বিতরণ শেষ করতে সবাইকে নির্দেশনা দেয়া আছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।