স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সিটি মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জমান লিটনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। সভায় রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পদৰেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, ঢাকা থেকে আগত ট্রেন ও বাসে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা, স্কুল-কলেজ থেকে শুর্ব করে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে উৎসস’ল ধ্বংসকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে ইত্যাদি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র খায়র্বজ্জামান লিটন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন রাসিকের স্বাস’্যকর্মীরা। এছাড়া জনসচেতনামূলক আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ, মসজিদে জুম্মার নামাজ এবং ওয়াক্তিয়া নামাজের পূর্বের সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার, স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার, কেবল নেটওয়ার্কে প্রচার, ৩০টি ওয়ার্ডে স্বাস’্য সহকারীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, ২জন মেডিকেল অফিসারের সমন্বয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগ ও কাউন্সিলরবৃন্দের তদারকিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গুর ব্যাপারে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিজের বাড়ির আঙ্গিনা আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মশক নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ স্প্রে এর কার্যক্রম শুর্ব হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর রহমান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ্যাকশন পৱ্যান করতে হবে। কারো একার পৰে মশক নিধন করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। শিৰিত ও সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনাসহ আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিএনসিসি, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ সকলকে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে নিয়োজিত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যানবাহনের গ্যারেজের পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব ও ডাব-নারিকেলের খোসায় পানি জমে থাকে। সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। এসবে পানি জমতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে যানবাহনের গ্যারেজসহ সংশিৱষ্ট জায়গাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ডেঙ্গু পরীৰায় অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বির্বদ্ধে আইনগত ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জামিলুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আগত ট্রেন এবং বিমানে মশক নিধন ওষুধ স্প্রে করা যেতে পারে। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে বা সামান্য জ্বর হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, সরকারের পৰ থেকে পরিচ্ছন্নতায় ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়ার বিষয়ে নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। পুরো জেলায় একদিনে একযোগে সকল প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে। হাট-বাজারগুলোতেও এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে।
পরিচালক (স্বাস’্য) ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলেন, রাজশাহী বিভাগে এখন পর্যন্ত ৩৯৭জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। তবে এ বিভাগে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যাননি। যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস’্য আছেন। ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আগেই যথাযথ পদৰেপ গ্রহণ করতে হবে। আক্রান্ত হয়ে প্রতিরোধের আগেই এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করতে স্কুলগুলোতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্কুলের আঙ্গিনাগুলো এবং যেসব স’ানে পানি জমে থাকে সেগুলো স’ান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
সভায় আরও উপসি’ত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত মহা-ব্যবস’াপক অসীম কুমার তালকুদার, প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সুজায়েত ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহামুদুল হাসান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন।