রাজধানী থেকে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। ৬৪ জেলার ৬৪টিতেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ নেত্রকোনা জেলায় দেখা মিলেছে পাঁচ ডেঙ্গু রোগীর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই তথ্যই প্রমাণ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অড়্গমতা। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদড়্গেপ থাকলে এমন ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতো না।
গত পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১জুলাই পর্যনত্ম দেশে ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগীর সর্বশেষ সংখ্যা ১৯ হাজার ৫১৩ জন। সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ১৪ জন, তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি। গত বছর ডেঙ্গু আক্রানত্ম মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ১৪৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। আর গত জুলাই মাসেই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ জন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত পরশু কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের সবাই ঢাকা থেকে ফিরে ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও স্থানীয় একজনই শনাক্ত হয়েছেন। এই সংবাদকর্মী ডেঙ্গুর খবর সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গিয়েই আক্রানত্ম হয়েছেন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ রাজশাহীকে আর ডেঙ্গুমুক্ত বলা যাবে না।
এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিকল্পিত পদড়্গেপ জরম্নরি হয়ে উঠেছে। এড়্গেত্রে ইতিমধ্যেই প্রচলিত পন্থায় মশক নিরোধী অভিযান অকার্যকর প্রমাণ হয়েছে। কারণ কিউলেঙ মশা মারার যে কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে তাতে এডিস মশা মরে না। ড্রেন, ডোবা, নালা বা রাসত্মার আশপাশে, ঝোঁপ-ঝাড়ে এডিস মশা থাকে না। এর অবস্থান বাসা-বাড়ি, নির্মাণাধীন দালান, রাসত্মার পাশের বিভিন্নভাবে জমে থাকা পানিতে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিসের বংশবিসত্মার ঘটে। তাই কিউলেঙ মশা নিধনের পদ্ধতিতে এডিস মশা নির্বংশ সম্ভব নয় এটা সবাইকে বুঝতে হবে।
অন্যদিকে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ সাধারণত মে-জুন থেকে শুরম্ন হয়। আগস্ট-সেপ্টেম্বরেই এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। এবার তার আগে জুলাই মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রানেত্মর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
আসন্ন ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে যারা আসবেন তাদের মধ্যে এডিসের জীবাণু বাহক থাকাই স্বাভাবিক। তাই এখনই রাজশাহীতে এডিস মশা নিধনের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে মাঠে নামতে হবে। সমন্বিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ অসম্ভব। এর প্রস্তুতি কতদূর সেটাই প্রশ্ন।