স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। এর ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজশাহীর মানুষ। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যনত্ম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরমধ্যে দু’জনের অবস্থা আশংকাজনক তাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেড়্গণে) রাখা হয়েছে। এছাড়াও ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়াও নগরীর বেসরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। গত জুলাই মাসে অর্ধশতাধিকের বেশী রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যনত্ম ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। তবে এখন জুন থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরম্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী আসছে। সামনে ঈদের মধ্যে এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশংকা করছেন। উপ-পরিচালক বলেন, আক্রানত্মরা সকলেই ঢাকায় গিয়ে আক্রানত্ম হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা মানুষকে কামড়ায়। আকারে ড়্গুদ্র হলেও মারাত্মক এই এডিস মশা। এই মশা কীট ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু সবই বহন করতে পারে। ড়্গুদ্র এই মশার একবার মাত্র কামড়ে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে মানুষ থেকে আরেক মানুষে।
এডিস মশার জন্ম আফ্রিকায় প্রায় চারশ বছর আগে। পরে এটি গ্রীষ্মম-লীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ড়্গুদ্র এই প্রাণীটি পরিচিত ‘এশীয় টাইগার’ নামে।
এদিকে, সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু রোগ মহামারিতে পরিণত হতে চলেছে। এ রোগে আক্রানত্ম অনেকে সুস্থ হয়েছেন আবার অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। এডিস মশা এখন দেশের মানুষের কাছে এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকি দুটি বিকল্প উপায় বিবেচনা করছেন। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। মশা মারতে কামান নয় বরং মশা দিয়েই ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। দুটি পদ্ধতির মধ্যে একটি হচ্ছে, উবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া, অপরটি জেনেটিক্যালি মডিফায়েড মশা। এরমধ্যে উবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া পদ্ধতি ব্যবহারে বিশ্বের কয়েকটি দেশ সফলতা অর্জন করেছে এবং সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মেঙিকো।
বিজ্ঞানীদের মতে, এডিস মশার কোষে এই ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মতো চারটি ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উবাকিয়া একটি ব্যাকটেরিয়া যা প্রকৃতিতে ৬০ শতাংশ কীট পতঙ্গের দেহকোষে পাওয়া যায়। যেসব ফলমূলে মাছি বসে সেগুলোর কোষ থেকে সুক্ষ্ম একটি সুঁচ দিয়ে উবাকিয়া সংগ্রহ করা যায়। এই ব্যাকটেরিয়া এডিস মশার ডিমের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলে এটি ডিমের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত হয়। এমন মশার প্রজনন ঘটিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশ রোগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ তত্ত্ব্ব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসিআরে’র সাবেক পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমানের মতে উপরোক্ত পদ্ধতি ব্যবহারে যখন এডিস মশা মানুষকে কামড়ায় তখন আর তার দেহে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটে না।