প্রেস বিজ্ঞপ্তি : রাজশাহী কলেজে নির্মাণ হতে যাচ্ছে স্বাধীনতা চত্বর। বিষয়টি কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে।
কলেজ অধ্যৰ প্রফেসর হবিবুর রহমান গতকাল বুধবার জানান, কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার পর প্রস্তাবনাটি ডিজি দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে ২/৩দিনের মধ্যেই প্রস্তাবনাটির নির্দেশটি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। কলেজের কোন জায়গায় এ চত্বরটি নির্মাণ করা হবে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের “রবীন্দ্র নজর্বল চত্বরে”র পার্শের স’ানটি চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবুর কাছে কয়েকমাস আগে এ ব্যাপারে আলাপ কালে তিনি জানান, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে রাজশাহী কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা আছে। তার কাছে জানা যায়, ১ মার্চ তখন দুপুর একটা টিফিনের সময় কলেজের পাশে রাস্তার ধারে ড্রেনের উপর চায়ের দোকানে চা পানের সময় এই কলেজের ছাত্রনেতা চৌধুরী খুরশিদ বিন আলম ও র্বহুল আমিন মঞ্জু শুনলেন সংবাদের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তারবেতার ভাষণে পার্লামেন্ট স’গিত করলেন। তাঁরা বুঝে ফেললেন এটা ষড়যন্ত্র। ঠিক তখনই তাঁরা প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কলেজের গেট বন্ধ করে দিয়ে অফিস ভবনের সামনে ছাত্র ছাত্রীদের এক সাথে করে ঘটনাটি জানালেন। ছাত্রনেতা র্বহুল আমিন মঞ্জুরের প্রস্তাবে সাধারণ এক ছাত্রের সমর্থনে চৌধুরী খুরশিদ বিন আলম এর সভাপতিত্বে সভা চলাকালে ঘটনাটি না জানা ছাত্রনেতারা এখানে এসে তা জেনে প্রতিবাদ সভায় অংশ নিতে থাকলেন। ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস,আব্দুস সামাদ, মাহফুজুর রহমান খান, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা হাবিবুর রহমান টুকুর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কে ছাত্রলীগ কে ছাত্র ইউনিয়ন সে পরিচয় আর থাকলনা। বৃহত্তর ঐক্য থেকে ঘোষণা করা হল আর কোন দফা নয় এক দফা স্বাধীনতা পরিসি’তি উত্তেজনাকর হয়ে উঠল। চৌধুরী খুরশিদ বিন আলম কলেজের পাশ থেকে সংগ্রহ করা পাকিস্তানী পাতাকায় আগুন লাগিয়ে দিলেন। সভা চলা অবস’াতেই তিনি কলেজের ছাদে গিয়ে পাকিস্তানী পতাকায় আগুন দিলেন। রাজশাহী ক্যান্টন-মেন্টে এ খবর গেলে সেখান থেকে এক কর্ণেল রাজশাহী কলেজের অধ্যৰ সামসুদ্দিন আহমেদের কাছে কৈফিয়ত চাইলে তিনি তাঁর অফিসে চৌধুরী খুরশিদ বিন আলমকে ডেকে পাঠালে তিনি অধ্যৰ সামসুদ্দিন আহমেদকে ঘটনাটি জানিয়ে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে পশ্চিম দিকে যেতে থাকলে ছাত্র জনতাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এক হয়ে গেল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে ফেলা হল। কোর্ট চত্বরে জেলা প্রশাসকের অফিসের পাকিস্তানী পতাকা পুড়ানোর পর জজ কোর্টের পতাকাটি নামানোর কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠল। আফজাল হোসেন ছবি, গোলাম সামদানী প্রমুখের সহযোগিতায় রাজশাহী কলেজের ছাত্র দরগাপাড়ার সাব্বির হোসেন মতি এ কাজটি করে ফেললেন। পোড়া পতাকাটির কিছু অংশ লাঠির আগায় লাগিয়ে খুরশিদ বিন আলম ছাত্র জনতার মিছিল নিয়ে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের সামনে আসতেই বেতার কেন্দ্রের ভিতর থেকে এক সৈন্য তাঁর দিকে অস্ত্র তাক করলে মিছিলটি থমকে গেলে অনেকে আশে পাশে আশ্রয় নিতে থাকলেন। পোড়া পতাকা নিয়ে চৌধুরী খুরশিদ বিন আলম রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। এ সময় সেনাবাহিনীর এক অফিসার অস্ত্র তাক করা সৈনিকটিকে নিবৃত করলেন। ছাত্র জনতা চৌধুরী খুরশিদ বিন আলমের সাহসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে উঠল। মিছিলটি সিএন্ডবির মোড়ে আসতেই খবর পাওয়া গেল বর্ণালী সিনেমা হলে উর্দু ছবি রোড টু সোয়াত চলছে। মিছিলকারীরা সেখানে গিয়ে সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ করে দিলে সিনেমা হল কর্তৃপৰ আন্দোলনের সাথে একত্মতা ঘোষণা করে দর্শকদের টিকেটের মূল্য ফেরত দিতে চাইলে দর্শকরা এ নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ না দেখিয়ে মিছিলে যোগ দিতে থাকল। জয় বাংলা শেৱাগান দিয়ে মিছিলটি ভুবন মোহন পার্কে এলে প্রতিবাদ সভা শুর্ব হল। এ সভা থেকে আন্দোলন তীব্র করার ঘোষণা দেয়া হল জয় বাংলা, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা শেৱাগানে রাজশাহী জেলা সদর উত্তাল হয়ে উঠল।
এ ঘটনাটিকে কলেজ চত্বরে স্বরনীয় করে রাখতে তিনি রাজশাহী কলেজ অধ্যৰকে প্রস্তাবনা দেন। কলেজ অধ্যৰ বিষয়টি সাদরে গ্রহণ করেন।