স্টাফ রিপোর্টার: তিনি একাধারে সহকারী শিড়্গক, অধ্যড়্গ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এএইচএম কামরম্নজ্জামান মুকুল নামের এই ব্যক্তি একটি স্কুলে চাকরি করেন। এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন নেন। কিন্তু রাজশাহীতে খুলে বসেছেন নিজের একাধিক শিড়্গা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে তিনি অধ্যড়্গ আবার কোনোটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অভিযোগ উঠেছে, শিড়্গা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার কিছুই মানেন না তিনি।
তার বিরম্নদ্ধে সম্প্রতি বাংলাদেশ কারিগরি শিড়্গা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগ গেছে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক)। অভিযোগের অনুলিপিতে দেখা যাচ্ছে, কামরম্নজ্জামানের বিরম্নদ্ধে আট ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে তাকে একজন ‘শিড়্গা ব্যবসায়ী’ হিসেবে উলেস্নখ করা হয়েছে। যদিও কামরম্নজ্জামান তার বিরম্নদ্ধে তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কামারম্নজ্জামান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি এলাকার জোতকার্তি বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিড়্গক। তবে রাজশাহী মহানগরীর সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল ও কলেজের অধ্যড়্গ তিনি। এছাড়া তিনি সিটি পলিটেকনিক অ্যান্ড টেঙটাইল ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শিড়্গা ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ।
অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এমপিও নীতিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য শিক্ষক/কর্মচারিগণ একই সাথে একাধিক স্থানে চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোন পদে নিয়োজিত থাকতে পারেন না। কিন্তু সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সহকারী শিড়্গক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় কামরম্নজ্জামান নিজেই দুটি শিড়্গা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন।
রাজশাহী মহানগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকায় চাঁন অ্যান্ড সন্স শপিং কমপেস্নঙে তার দুই শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের পঞ্চম তলায় কামরম্নজ্জামানের পলিটেকনিক ও টেঙটাইল এবং ষষ্ঠ তলায় স্কুল অ্যান্ড কলেজ। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই আলাদা আলাদা সাইনবোর্ড রয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, একই ভবনে থাকলেও দুটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা আলাদা। স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য রাজপাড়া থানার সিটি বাইপাস এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আর পলিটেকনিকের ঠিকানা বোয়ালিয়া থানার চাঁন শপিং কমপেস্নঙ। অথচ বাংলাদেশ কারিগরি শিড়্গাবোর্ডের নীতিমালায় বলা আছে, একই ভবনে একাধিক ক্যাম্পাস থাকতে পারবে না।
গত মঙ্গলবার স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে কথা হয় সেখানকার সহকারী শিড়্গক আবদুল হান্নানের সাথে। তিনি জানান, স্কুল অ্যান্ড কলেজ যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন তার ক্যাম্পাস রাজপাড়া থানা এলাকায় ছিল। সেখানকার ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করা হয়েছে। পরে তাদের সুবিধার জন্য প্রায় ২৫০ জন শিড়্গার্থীসহ ক্যাম্পাসটি নিউমার্কেট এলাকায় আনা হয়। কিন্তু বোর্ডের অনুমোদন না পাওয়া পর্যনত্ম সাইনবোর্ড থেকে ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় না। তাই সাইনবোর্ডে রাজপাড়া থানারই ঠিকানা আছে। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক সাইনবোর্ড দুটি পাল্টে নতুন সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন। নতুন দুই সাইনবোর্ডে কোনো ঠিকানাই লেখা নেই।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায় আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে কামরম্নজ্জামানের আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কামরম্নজ্জামানের স্ত্রী মারম্নফা খানম সেখানকার অধ্যড়্গ। অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানেও বসে আছেন নিকটাত্মীয় য়রা। গুরম্নত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন কামরম্নজ্জামানের শ্যালক ফারহান শাহরিয়ার খান হেলাল। শ্যালিকা শরিফা খানমও আছেন সহকারী শিড়্গক হিসেবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, শরিফা খানম শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। তবে দারম্নল ইহসান ইউনিভার্সিটি থেকে সনদ কিনে তিনি দাখিল করেছেন। সনদ বাণিজ্যের কারণে হাইকোর্ট ২০১৬ সালে বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যসত্ম থাকায় কামরম্নজ্জামান চারঘাটের স্কুলে ঠিকমতো যান না। তবে হাজিরা খাতায় স্বাড়্গর করেন নিয়মিত। বেতনও তোলেন প্রতিমাসে। আর কামরম্নজ্জামানের শিড়্গা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরম্নদ্ধে সনদ বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিড়্গার্থীরা তেমন একটা আসে না। তাই ঠিকমতো ক্লাশও হয় না। নেই প্রয়োজনীয় শিড়্গক। আর যারা রয়েছেন তাদের যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এসব প্রতিষ্ঠান খুলে কামরম্নজ্জামান শিড়্গা নিয়ে রীতিমতো ‘বাণিজ্য’ করছেন। তার প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় এ বছর সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল ও কলেজের পরীড়্গা কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এএইচএম কামরম্নজ্জামান মুকুল বলেন, আমি একাধিক প্রতিষ্ঠানের পদে থাকলেও সরকারি বেতন তুলি এক জায়গা থেকে। আমার প্রতিষ্ঠানগুলো শিড়্গার বিসত্মারের জন্যই খুলেছি। সনদ বাণিজ্যের অভিযোগ সত্য নয়। একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নতুন জায়গা খুঁজছি। পেলে একটিকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেব। দুটি প্রতিষ্ঠান এখন এক জায়গায় থাকার বিষয়টি বাংলাদেশ কারিগরি শিড়্গাবোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ কারিগরি শিড়্গাবোর্ডের সহকারী সচিব (প্রশাসন) কেএম ওয়াইদুর রহমান বলছেন, একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকার কোনো সুযোগ নেই। আর এমপিওভুক্ত কোনো শিড়্গকও নিজে প্রতিষ্ঠান খুলে কোনো পদে থাকতে পারবেন না। এটা নীতিমালার পরিপন্থি। তিনি বলেন, কামরম্নজ্জামানের বিরম্নদ্ধে যে অভিযোগ হয়েছে সেটা তিনি জানেন না। এটা মহাপরিচালকই বলতে পারবেন। অভিযোগ হলে নিশ্চয় তিনি বিষয়গুলো তদনত্ম করে দেখবেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।