তৈয়বুর রহমান: তীব্র জনবল সংকটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী জোন কার্যালয়। একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আসছেই। অতীতের চেয়ে ১০গুণ কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি জনবল। এ জোনে পদ সংখ্যা ২১টি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২জন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের কথা স্বীকার করলেও কোন লোক নিয়োগ দেয়নি এখানে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ জোনে ২জন সহকারী প্রকৌশলী ও ৩জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পদ ফাঁকা রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। এর সাথে দুইজন কম্পিউটার অপারেটরের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এর সাথে দুইজন অ্যাকাউন্ট অ্যাসিসটেন্টের পদও শূন্য বহুদিন ধরে। এখানে যিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি হজ্বব্রত পালনে গেছেন ছুটি নিয়ে। এখন যিনি এখানে সাময়িক দায়িত্ব পালন করছেন তিনিও আসছেন বগুড়া থেকে। তিনি বগুড়া অফিসের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। প্রতিদিন সেখান থেকে এসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে এতো কাজের চাপ যে অন্য স্থান থেকে এসে এ কার্যালয়ের সমস্ত কাজ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। আর এখানে যারা আছেন অতিরিক্ত কাজের চাপে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এ জোনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের থানা ও উপজেলার এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। ঐসব এলাকার স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করতে হচ্ছে এই সামান্য জনবল দিয়ে। জনবল সংকটের চাপে পড়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজ। এর ফলে রাজশাহী শিক্ষা প্রকৌশল জোনের প্রবল চাপে সকল প্রকল্পের কাজ লেজেগোবরে হয়ে পড়েছে। তাই একজন দুঃখ করে বললেন, এটাকে অফিস বলে না। এর কাজ আল্লাহ চালাচ্ছে বলে চলছে।
এই অফিসের দায়িত্ব হচ্ছে দুই জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো কাজের টেন্ডার দেয়া, তদারকি করা। কাজ সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা। অথচ জনবল সংকটের কারণে সেকাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে পারছে না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজ।
ইতোমধ্যে দেশব্যাপী স্কুল-মাদ্রাসা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার স্কুল ও মাদ্রাসার অবকাঠামোর টেন্ডারের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জোনে ৯০টি স্কুল ও ৫২ টি মাদ্রাসার উন্নয়নও কাজও রয়েছে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও ৯০টি স্কুলের উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা এসে গেছে। আর এসব প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে এ সব স্কুল-মাদ্রাসার টেন্ডারের কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু জনবলের কারণে তা পুরোপুরি শুরু করতে পারছে না শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী জোন।
ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী জোনের ৫২টি মাদ্রাসার মধ্যে ৩৫টির টেন্ডার হয়ে পড়ে আছে। অবশিষ্ট ১৭টি মাদ্রাসার টেন্ডারই করতে পারেনি তারা। তবে দেশব্যাপী উন্নয়ন প্রকল্পের ৩ হাজার স্কুল তালিকা থেকে ৮টি স্কুলকে টেন্ডার থেকে বাদ রাখা হয়েছে স্থান সংকুলানসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে। তবে যে হারে কাজের পরিধি বেড়েছে সে তুলনায় জনবল বাড়েনি। জনবল সংকটের কারণে কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তাদের।
রাজশাহী জোন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী নিয়াজ আহম্মদ সিদ্দিকী ও আনসার আলী এ অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ছিলেন। ইতোমধ্যে তারাও অবসরে গেছেন। তারা এ সকল কাজ তত্ত¡াবধান করতেন। তারা অবসরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এরফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন কাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ কয়েক বছরে নগরীর স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজ বহুদূর এগিয়ে গেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর ৬টি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও ১০ স্কুলের নতুন ভবন ও ঊর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজের টেন্ডার হবার কথা। এরমধ্যে ১০ টি স্কুলের মধ্যে ৮ টির টেন্ডার হয়েছে। তবে স্থান সংকুলানের অভাবে দুটি স্কুলের টেন্ডার হয়নি। ইতোমধ্যে আরও ১০টি স্কুলের ঊর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ ও সেসেপ প্রকল্পভুক্ত আরও ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্প ও ১ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজের তালিকাও এসেছে। এ দিকে দিনের পর দিন কাজের পরিধি বাড়লেও কমেছে জনবল।এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার কাজ শুরু হলেও জনবল না থাকায় টেন্ডারের কাজ সেরে পড়ে আছে অনেক স্কুল ও মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ।
উন্নয়ন প্রকল্পভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার ও তত্ত¡াবধান করার দায়িত্ব এই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী জোন অফিসটির। আর সকল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়দায়িত্ব বহন করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
এ ব্যপারে উক্ত কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (অব:) নিয়াজ আহমেদ সিদ্দিকীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জনবলের অভাবে এ প্রতিষ্ঠানটির কাজ এগুচ্ছে না। এ জোনে দুইজন সহকারী প্রকৌশলী ও তিনজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। আমি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছি। ইতোমধ্যে আমি অবসরে গেলেও লোকের অভাবে আমাকেই কাজ দেখিয়ে দিতে হচ্ছে।