দিনে দিনে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর ডেঙ্গু ৫৯ জেলায় ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ১৫ দিনে ৫৩ ডেঙ্গু আক্রান্তের চিকিৎসা হয়েছে, যাদের ২০ জন এর মধ্যেই সুস’ হয়ে ফিরে গেছেন। বাকিরা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি যেমন উদ্বেগের তেমনি এখন পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে আক্রান্ত সবাই রাজধানী ফেরত এটা স্বস্তিজনক। সেখান থেকেই ডেঙ্গুর জীবাণু বয়ে এনেছেন তারা। রাজশাহীর মানুষ এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুমুক্তই আছেন।
হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সুচিকিৎসা ও সাবধানাতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ কার্যোপলৰে রাজধানী যাওয়া মানুষের সংখ্যা কম নয়। আর আসন্ন ঈদে রাজধানী থেকে আসা মানুষের সাথে ডেঙ্গুর জীবাণু আসবে না সেটা জোর দিয়ে বলা যায় না। একই ভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।
তাই পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে আরও সচেষ্ট হতেই হবে। আশপাশে কোথায়ও যাতে পানি জমে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে বাসা-বাড়ি ও এলাকার দেখভালের দায়িত্ব যেমন প্রতিটি নাগরিকের তেমনি নগরীর ড্রেন ও নিচু এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে নগর কর্তৃপৰের একটু বাড়তি দৃষ্টি দেয়াও জর্বরি। শুর্বতে রাজধানীর দুই নগর কর্তৃপৰের অবহেলার পরিণতি এখন আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। দুই মেয়র ও সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না বলেই আশা করা যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের সার্বৰণিক মশারির ভেতরে থাকা যেমন জর্বরি তেমনি বাসাবাড়িতে দিন-রাত ঘুমাবার সময়ও মশারি টাঙাতে অবহেলা না করাই ভালো। কারণ ডেঙ্গু আক্রান্তের রক্ত থেকেই এর জীবানু এডিস মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, এটা এখন আর কারও অজানা নেই। তাই মশা নিধনে প্রয়োজন সর্বাত্মক অভিযান। এ ৰেত্রে অবহেলার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ডেঙ্গু রোগ নিরাময়যোগ্য। অবহেলা না করে জ্বর আসার সাথে সাথে এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে আতঙ্কের কিছু নেই। প্রয়োজন সর্বাত্মক সতর্কতা। এর কোনও বিকল্প নেই।