স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। হাসপাতালের পড়্গ থেকেই রোগীদের সরবরাহ করা হয়েছে মশারি। রোগীদের সব সময় মশারির নিচেই থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক রোগীই বিষয়টি মানছেন না। ফলে নতুন করে রাজশাহীতেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রোগীর আশপাশে থাকা মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই থেকে এখানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগী ভর্তি হতে শুরম্ন করেছেন। গতকাল সোমবার পর্যনত্ম মোট ৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ জন ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। গতকাল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৩ জন রোগী। এর মধ্যে গত রোববার থেকে গতকাল পর্যনত্ম ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১২ জন। গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) একজন পুলিশ কনস্টেবল ভর্তি আছেন। আক্রানত্মদের সবাই এসেছেন ঢাকা থেকে।
হাসপাতালের ১৭ নম্বর কেবিনকে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ করেছে কর্তৃপড়্গ। এখানে গতকাল দুপুরে তিনজন রোগী ভর্তি দেখা যায়। এদের কেউই মশারি টানাননি। চারদিন ধরে এ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিড়্গার্থী আবদুল হাসিব গালিব। তার বাড়ি পাবনা। মশারি না টানানোর কারণ জানতে চাইলে গালিবের মা ফেলিয়া বেগম বলেন, দিনে মশা নেই। তাই মশারি টানাইনি। তবে সন্ধ্যা হলে মশারি টানাই।
পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কিশোরী নূর সাজিয়াকেও মশারির ভেতর রাখা হয়নি। বেডের ওপর মশারি থাকলেও তা এক কোণে জড়ো করে রাখা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে সাজিয়ার মা মুসলিমা খানম বলেন, বেডের ওপর ফ্যান নেই। ফ্যানটা একটু দূরে। মশারি টানালে বাতাস লাগে না। তাই মশারি টানাচ্ছেন না। তবে রাতে মশা লাগলে মশারি টানান। সাজিয়া ভর্তি আছেন পাঁচ দিন ধরে।
রামেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডেও ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগী আছেন। সেখানে গিয়ে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। এদের মধ্যে ওয়ার্ডের ভেতরে তিনজনকে মশারি টানিয়ে রাখতে দেখা যায়। বাইরের বারান্দায় আরও একজনকে মশারির ভেতর শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে অন্য দুই রোগী মশারি না টানিয়েই শুয়ে ছিলেন। হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়েও একজন রোগীকে মশারি না টানিয়েই শুয়ে থাকতে দেখা যায়।
তবে ডেঙ্গু আক্রানত্ম এই হাসপাতালেরই আইসিইউ এর চিকিৎসক মনিরম্নল ইসলামকে ১৭ নম্বর কেবিনে মশারি টানিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এই চিকিৎসক বলেন, সব এডিস মশা ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে না। কেবল আক্রানত্ম রোগীকে কামড় দেয়ার পরই একটি এডিস মশা ডেঙ্গুর জীবাণু পায়। তাই ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম প্রত্যেক রোগীরই মশারির নিচে শোয়া উচিত। তা না হলে এডিস মশা তাকে কামড় দেয়ার পর যদি একজন সুস্থ মানুষকে কামড় দেয় তবে তিনিও ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হবেন।
ডা. মনিরম্নল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে আসার পরই আমি ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হই। গত ছয় দিন ধরে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। ডেঙ্গুর জীবাণু সাধারণত শরীরে সাত দিন সক্রিয় থাকে। তবে এই ছয়দিনেই আমাকে অনত্মত ৩০টি ইনজেকশন নিতে হয়েছে। আমার সেবাযত্নের জন্য পরিবারের সদস্যরা আছে। আমি চাই না, আমার পরিবারেরও কেউ এতে আক্রানত্ম হোক। বিশেষ করে শিশুরা এই ৩০টি ইনজেকশন নেয়ার ড়্গমতা রাখে না। তাই সতর্ক আছি। সব সময় মশারির ভেতরেই থাকছি।
ডেঙ্গু আক্রানত্ম অনেক রোগীই মশারির ভেতর না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, ভর্তি হওয়ার পর পরই আমরা হাসপাতালের পড়্গ থেকেই ডেঙ্গু আক্রানত্ম সব রোগীকে মশারি সরবরাহ করেছি। তাদের সব সময় মশারির ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওয়ার্ডের নার্সদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব রোগীই যেন মশারির ভেতর থাকেন সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করব। তবে আমরা দেখেছি, হাসপাতালের আশপাশে এডিস মশা নেই।
উপ-পরিচালক বলেন, সামনে ঈদ। অনেক মানুষ ঢাকা থেকে আসবেন। তখন হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি রাখছি। আজ (সোমবার) আমরা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আরেকটি ওয়ার্ড বৃদ্ধি করেছি। ইতিমধ্যে মেডিসিন বিভাগের সব প্রফেসরদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরেই সব ধরনের পরীড়্গা-নিরীড়্গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্তও রোগীকে সরবরাহ করতে পারব।