এক সময়ের প্রমত্তা বড়াল নদ এবার যেন নবযৌবন ফিরে পেয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এই নদে এখন বর্ষাকালের স্রোত দেখা দিয়েছে। অথচ মানুষের হাতেই মরতে বসেছিল ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদটি।
সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী জেলার ১০ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা এই নদটি র্বগ্নদশায় পড়েছিল সুবিধাবাদী প্রভাবশালীদের দ্বারা। এই নদ প্রথম বন্দোবস্ত দেয়া হয় ১৯৮১ সালে। সে সময় রাজশাহীর চারঘাট ও পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সৱুইসগেট নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চাটমোহরের চারটি পয়েন্টে দেয়া হয় চারটি আড়াঁআঁড়ি বাঁধ।
এভাবে পুকুরে পরিণত হওয়া নদ ‘জলকার’ হিসেবে মাছচাষিদের কাছে লীজ দেয় সংশিৱষ্ট দপ্তর। এতে বন্ধ হয়ে যায় উন্মুক্ত মাছধরা। নদীর বুক থেকে হারিয়ে যায় হরেক রকমের ও নানা স্বাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ। মাছ চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক, সার ও মাছের খাদ্য পানিকে গৃহস’ালী কাজের জন্য অনুপযুক্ত করে। সেচ কাজ এমনকি গোসল করাও বন্ধ হয়ে যায় নদীতীরের মানুষের। লিজ গ্রহিতারাই হয়ে ওঠে নদের মালিক।
দীর্ঘকাল বর্ষার পানি না আসায় পানির স্তর ক্রমশঃ নেমে যেতে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পানির দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বড়ালের বুকে চাষাবাদ শুর্ব হয়। নদের এই মরণ দশা সহ্য করতে না পেরে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে আশপাশের মানুষ। ২০০৮ সাল থেকে বড়াল রৰা আন্দোলন শুর্ব হয়। লাগাতার আন্দোলন ও পরিবেশবাদীদের তৎপরতার এক পর্যায়ে লিজ দেয়া বন্ধ হয়। উচ্চ আদালতে রিট আবেদনের প্রেৰিতে দেয়া রায়ে সৱুইসগেট ও বাঁধ অপসারিত হয়। চারটি বাঁধের স’ানে নির্মিত হয় তিনটি ব্রিজ। আন্দোলন সফল হলেও দেখভালের অভাবে বড়াল পরিণত হয় কচুরিপানার ভাগাড়ে।
এবার বন্যার পানিতে ময়লা আবর্জনাসহ কচুরিপানা ভেসে যাবে এমনটাই আশা করছে বড়ালপাড়ের মানুষ। তবে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ ছাড়া কিছু হবে না বলে মনে করেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। এ বাস্তবতা অস্বীকার করা যাবে না।
তাই স’ানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বড়ালের নবজীবন লাভে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেবেন এটাই সবার আশা। একই সঙ্গে নাটোরের বাগাতিপাড়াসহ বিভিন্ন স’ানে এখনও যে সব প্রতিবন্ধকতা আছে সেগুলোও উচ্ছেদ করা জর্বরি। একমাত্র তখনই বড়ালের রৰা পাওয়া নিশ্চিত বলা যাবে।