এফএনএস: চলতি মাসের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করতে হবে। তা নাহলে আমদানি-রফতানি ব্যবসা করা যাবে না। আগামী আগস্ট মাস থেকেই ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অনলাইনে ভ্যাট প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী অনলাইনে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়াতে আবেদন করেছে। দেশে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা চালাতে হলে অনলাইনে ৯ সংখ্যার ভ্যাট বা মূসক নিবন্ধন নম্বর নিতেই হবে। ওই নম্বর ছাড়া ১ আগস্ট থেকে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। পণ্যও খালাস করা যাবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশিৱষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিৱষ্ট সূত্র মতে, অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে সার্কেল অফিসের পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে এনবিআর থেকে নিবন্ধন নম্বর দেয়া হচ্ছে। নিবন্ধন নম্বরও আকারে একটু ছোট হয়ে ৯ ডিজিট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গত অর্থবছরে এনবিআর প্রথম ধাপে দেশের বড় মাপের দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে অনলাইনে ভ্যাট প্রদানের সুযোগ রাখলেও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কাজে পুরনো পদ্ধতিই চালু ছিল।
সূত্র জানায়, অনলাইন কার্যক্রম সম্পূর্ণ চালু হলে যে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি সম্পর্কিত সব তথ্য এনবিআরসংশিৱষ্ট কর্মকর্তারা অফিসে বসেই দেখতে পারবেন। ভ্যাট আইন ২০১২ অনুসারে অনলাইনে ভ্যাট পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান এক মাসের ভ্যাট পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইনে যুক্ত কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এক মাসের ভ্যাট পরের মাসের ১৬ তারিখে পরিশোধে সুযোগ পাবে না।
সূত্র আরো জানায়, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের বিষয়ে এনবিআর থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গেও বিভিন্ন রাজস্ব দপ্তর থেকে সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণে আহ্বান জানানো হয়েছে। অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া আমদানি-রপ্তানি না করতে পারার বিষয়টি গত ৬ জুন এনবিআর থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সবাইকে জানানো হয়।
এদিকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের অনলাইনে নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ৯ ডিজিটের বিআইএন (ব্যবসা চিহ্নিতকরণ নম্বর) না থাকলে তার লাইসেন্সের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। ফলে তিনি গ্রাহকদের সিঅ্যান্ডএফ সেবা দিতে পারবেন না। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে পুনর্নিবন্ধন করতে হবে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, অনলাইনে ভ্যাট দেয়া হলে অসাধু এনবিআর কর্মকর্তা এবং ভ্যাট ফাঁকিবাজ ব্যবসায়ীরা অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ পাবে না।
এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের পরিচালক মুশফিকুর রহমান জানান, ৯ ডিজিটের নম্বর না থাকলে জুলাইয়ের পর কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি করার পর তা বন্দরে খালাস করতে পারবে না। এজন্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট অনলাইনে পুনর্নিবন্ধন নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। না হলে তাদের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।