স্টাফ রিপোর্টার: হাইকোর্টের আদেশে বন্ধ করে দেয়া বালুমহাল খুলে দেয়া না হলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টুর সমর্থকরা মানববন্ধন করে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর তালাইমারি মোড়ে রাজশাহীর বালু ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তবে তারা সবাই আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টুর সমর্থক। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বালুমহালই বন্ধ করে দিয়েছেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদীর কাজলা মৌজায় বেন্টুর এই ‘বালু সাম্রাজ্যে’ অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বালু তোলার সঙ্গে যুক্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর আগে অভিযানের সময় বালুমহালটি বন্ধ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন ‘মেসার্স আমিন ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর আজিজুল আলম বেন্টু। তিনি বালুমহালটি খুলে দেয়ার দাবি জানান। এবার হাইকোর্টের আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় তার পড়্গে মানববন্ধন করা হলো।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টু, পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুর রহমান বাদল, হাসান আলী, বালু ব্যবসায়ী মাহাফুজুর রহমান, বাবর আলী, মাসাদুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ।
তারা বলেন, বালুমহালটি বন্ধ করে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছেন। শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই আজ সোমবারের মধ্যে তারা বালুমহালটি চালু করার দাবি জানান। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার আট শ্রমিকের মুক্তি দাবি করেন। তা না হলে আগামীকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করার ঘোষণা দেন তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, আজিজুল আলম বেন্টু চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজার বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু বালু তোলা হচ্ছিল কাজলা মৌজা থেকে। এ নিয়ে আনোয়ার হোসেন নামের আরেকজন বালু ব্যবসায়ী হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রেড়্গিতে সীমানার বাইরে থেকে বালু তোলা হলে তা বন্ধের জন্য হাইকোর্ট নির্দেশ দেন। আমরা হাইকোর্টের আদেশ বাসত্মবায়ন করেছি। মানববন্ধন করম্নক আর যাই করম্নক, বালুমহাল খোলা সম্ভব নয়।
এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে হাতে ফেস্টুন ছিল। তাতে লেখা ছিল ‘গরিব মানুষের কর্মস্থলে মোবাইল কোর্টের হানা – সহ্য করা হবে না’। এ ধরনের কর্মসূচি পালন হাইকোর্টকে অবজ্ঞা করা বলে মনে করেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশে যদি প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবে তার বিরম্নদ্ধে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হাইকোর্টকে অবজ্ঞা করার সামিল।