স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। কিন’ গতকাল শনিবার পর্যনত্ম এই হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার স্ট্রিপের কোনো সরবরাহ নেই। এ সংক্রানত্ম সব ধরনের পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে। ফলে ভোগানিত্মর শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অথচ এই স্ট্রিপ হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে রোগীদের পাওয়ার কথা।
রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৭ জন ছিল। আরও ১১ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। ১৫ জুলাই থেকে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগী ভর্তি হওয়া শুরম্ন হয়। অথচ গতকাল পর্যনত্ম এই জ্বর পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্রিপ সরবরাহ নেই। সেই সঙ্গে রক্তের নানা ধরনের পরীক্ষার জন্যও বাইরের রোগ নির্ণয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে রামেক হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র নাপা ট্যাবলেট ছাড়া আর কোনো কিছু পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনেরা।
হাসপাতালে ভর্তি আছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। তার ছেলে আহসান হাবিব জানান, ২৪ জুলাই তার বাবাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। এই তিন দিনে তাদের বাইরে থেকে ৩ হাজার টাকার পরীক্ষা করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের লিখে দেওয়া হয় যে সকালের আগেই এই পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে। কিন’ হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস’া না থাকায় বেসরকারি রোগ নির্ণয়কেন্দ্র থেকে লোক এসে রক্তের নমুনা নিয়ে যাচ্ছেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম এক রোগীর স্বজন নাফরিন আরেফিন জানান, গত বৃহস্পতিবার তার বোনকে হাসপাতালের ডেঙ্গু কেবিনে ভর্তি করেছেন। ওই দিনই তার ডেঙ্গু শনাক্তকরণ টেস্ট করতে বলা হয়। বাইরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে তাদের ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তারা শুনেছেন ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার সব খরচ সরকার থেকে বহন করা হবে। এখানে এসে ভিন্ন চিত্র দেখছেন। এমনকি মাঝেমধ্যে স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। রোগীকে রেখে বারবার বাইরে যাওয়া-আসা করতে তার অনেক ভোগানিত্ম হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, গত বছরও এ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগী ভর্তি হয় তিনজন। এ কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগীর পরীক্ষার স্ট্রিপের প্রয়োজন পড়েনি। এখন হঠাৎ করেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এর দরকার পড়ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই স্ট্রিপ আসতে পারে বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়টি গতকালের হাসপাতালের সভায় তোলা হয়েছে । দেখা যাক কী হয়। তবে তিনি বলেন সিবিসি ও পস্নাটিলেট পরীক্ষার ব্যবস’া হাসপাতালে আছে। এগুলো ভেতরেই হওয়ার কথা। বিষয়টি তিনি দেখবেন। তিনি বলেন, এই রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে এমন কোনো সিদ্ধানত্ম নেই। এমনি সরকারি হাসপাতালে যে ব্যবস’া আছে, তা দেওয়া হচ্ছে।
বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, এখন পর্যনত্ম হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর একটি পরীক্ষা ছাড়া বাকি সব পরীক্ষাই ভেতরে করা হচ্ছে। তার কাছে এমন খবর রয়েছে। আর রোববার থেকে কোনো রোগীর পরীক্ষার বাবদ একটি পয়সাও লাগবে না।