ঈদের মত ধর্মীয় ও অন্যান্য সামাজিক উৎসবের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা শুরম্ন হয়। বিশেষ করে উৎসব উপলড়্গে সে সব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেগুলোরই মূল্য বাড়ে। তাই এই মূল্যবৃদ্ধিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে করা যায় না। এবারও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পেঁয়াজসহ মসলাপাতির দাম বাড়তে শুরম্ন করেছে। নগরীর বাজারগুলোতে ১৫ দিনের ব্যবধানে এলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫শ টাকা। দারম্নচিনি ৮০ টাকা, শুকনা মরিচ কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। কিছুটা বেড়েছে আদা, রসুন, জিরা, ধনিয়ার দাম। পেঁয়াজের দাম আগে থেকেই বাড়তে শুরম্ন করেছে। বর্ষার কারণে বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও।
ঈদের এখনও সপ্তাহ দুয়েক আছে। এভাবে মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ঈদের বাজারে আগুন লাগার বাকী থাকবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগামহীন মুনাফার বলি হতে হবে সাধারণ মানুষকে। তাই এখনই বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং শুরম্ন করা দরকার। নইলে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় শুরম্ন করার কথা জানিয়েছে। এ কার্যক্রমও শুরম্ন করা দরকার অবিলম্বে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ, তেলসহ ঈদে চাহিদা সম্পন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি শুরম্ন হলে খোলাবাজারে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।
বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ও অন্যান্য সামাজিক উৎসবের সময় বেচাকেনা বেড়ে গেলে দ্রব্যমূল্য কমে যায় স্বাভাবিকগতিতেই। এতে করে দোকানিরা লাভবানই হয়। আমাদের দেশে কেন একই সময়ে পণ্যমূল্য বেড়ে যায় সেটাও ব্যবসায়ীদের বিবেচনায় নেয়া দরকার। বিশেষ করে ব্যবসায়ী সমিতি ও চেম্বার নেতৃবৃন্দ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। এজন্য প্রশাসনসহ সংশিস্নষ্ট সবারই কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।
বন্যার দুর্ভোগের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া না হয় সেটা নিশ্চিত করা দরকার। ঈদের আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ করার বিকল্প নেই।