স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত বুধবার পর্যনত্ম রোগীর সংখ্যা ১০ জন থাকলেও গতকাল শুক্রবার সকালে তা ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন মৃত্যুর সন্ধিড়্গণে রয়েছেন একজন পুলিশ কনস্টেবল।
তার নাম আতিক হাসান (২৫)। আতিকের বাড়ি জয়পুরহাট। গত বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে তাকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার মনিরম্নল ইসলাম (৩৫) নামে আইসিইউ এর একজন চিকিৎসক গায়ে জ্বর দেখে ডেঙ্গু আশঙ্কায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মনিরম্নল সম্প্রতি ঢাকায় গিয়েছিলেন।
আক্রানত্ম রোগীদের বরাত দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপড়্গ বলছে, যারা ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তারা সবাই ঢাকা থেকে এসেছেন। কেউ কেউ সেখানে চিকিৎসাও নিয়েছেন। রাজশাহীতে বাড়ি বলে ঢাকায় ‘চাপ’ কমাতে তাদের এখানে রেফার্ড করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনত্মত ২০ জন রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
আইসিইউ এর সামনে কথা হয় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রানত্ম পুলিশ সদস্য আতিকের বাবা বাবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, তার ছেলে বগুড়ায় কর্মরত। বগুড়া থেকে তাকে দুই মাসের জন্য পাবনা পাঠানো হয়। পাবনা থেকে সম্প্রতি পাঁচদিনের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা। সেখানেই ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হন আতিক। এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিড়্গণে রয়েছেন তাদের একমাত্র সনত্মান।
আতিকের স্ত্রী মাহিয়া আক্তার জানান, এ পর্যনত্ম আতিককে ৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আরো দিতে হবে কিনা তা চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইসিইউ এর ইনচার্জ ডা. গোলাম মোসত্মফা জানান, ডেঙ্গু সাধারণত দুই ধরনের হয়। প্রথমত সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর, দ্বিতীয়ত হেমোর‌্যাজিক ফিভার। আতিকের হেমোর‌্যাজিক ফিভার। তাই তার অবস্থা সংকটপন্ন। তবে আগের চেয়ে অবস্থা এখন কিছুটা ভাল।
এদিকে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, গতকাল সকাল পর্যনত্ম হাসপাতালে ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রানত্ম রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে শুধু আতিকই আইসিইউতে। বাকিরা ১৬ ও ১৭ নম্বর কেবিন এবং ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া আরও ১১ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদের মধ্যে একজন আইসিইউতেও ছিলেন।
ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, রোগীরা সবাই ঢাকা থেকে এসেছেন। এতেই রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমরা সাধ্যমতো ভাল চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। তারপরও এ ব্যাপারে আরও ভাল চিকিৎসার জন্য আজ শনিবার আমরা একটি সমন্বয় সভা ডেকেছি।