রাজধানীতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সবাইকে আতঙ্কিত না করে পারে না। বিশেষ করে নানা প্রয়োজনে যাদেরকে রাজধানীতে যেতেই হয়। এর মধ্যেই রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সবাই রাজধানী থেকে ফিরেই অসুস’ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। তবে নগরীতে জ্বরে আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডেঙ্গু আতঙ্কও বাড়ছে। এমন অবস’ায় দেশব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন উপলৰে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) কর্মসূচি গ্রহণের খবর আশাব্যঞ্জক।
কারণ রাজশাহীতে মশার উপদ্রব এমনিতেই বেশি। নিয়মিত মশা মারা অভিযান না থাকা, নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা, এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন নালা-নর্দমার মত নানা কারণে অবাধে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটেছে। তাই পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে মসজিদে প্রচারণা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন, ড্রেন, ডোবানালা, ঝোপঝাড়, জঙ্গল পরিষ্কার, কচুরিপানা উত্তোলন ও ড্রেনে নিয়মিত মশার কীটনাশক স্প্রে করার কথায় নগরবাসী আশ্বস্তই হবে। রাসিক মেয়রের অনুপসি’তিতে প্যানেল মেয়র-১ এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন, যা ২৫-৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
রাজধানী ঢাকার পরিসি’তি এমন কর্মসূচি পালনের গুর্বত্ব চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেন, ডোবা-নালা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার কাজে অবহেলা না থাকলে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব কিছু নয়। সেই সাথে কীটনাশক স্প্রে ও ফগার মেশিনের কার্যকর ব্যবহারে মশার উপদ্রব এড়ানোও সম্ভব। এসবই জানা কথা হলেও কেন যে নিশ্চিত হয় না সেটা আমাদের জানা নেই।
তবে রাজশাহীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর দেখা মেলেনি তেমনভাবে। চলমান মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হলে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে না। রাসিক ও হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এৰেত্রে নগরবাসীকেও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। নিজ নিজ অবস’ান থেকে সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই আমরা রাজশাহীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পারি। এলৰ্যেই রাসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কাম্য।