তৈয়বুর রহমান: বাজারে এখন ফুরিয়ে আসছে আম। তাই তার দাম হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। আমের মৌসুম এবার বেশ দ্রম্নতই শেষ হয়ে গেল। এবার আমের ফলনও গতবারের চেয়ে কিছু কম হয়েছে। বাজার ফজলীর দখলে থাকলেও অন্যন্য আম এখন প্রায় শেষের পথে। সামান্য যা আছে তার দামও আকাশ ছোঁয়া। সুরমা ফজলীর দাম প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। আম্রপালী বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। লড়্গণভোগ, গোপালভোগ, মোহন ভোগ,খিরসাপাত, ল্যাংড়া, হিমসাগর আর হাড়িভাঙ্গাসহ অধিকাংশ আম প্রায় শেষ হয়ে গেছে। অথচ কয়েক দিন আগে এই আম বাজারে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। তা ছাড়াও নানা অজানা জাতের আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আম বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। অথচ গত বছর এ সময় বাজারে এসব আম বিক্রি হয়েছে কম দামে।
প্রায় ৮৫ ভাগ আম শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে যা বাকী রয়েছে তার প্রায় ৫ ভাগ ফজলী আর ১০ভাগ আশ্বিনাসহ অন্যান্য আম। ইতোমধ্যে বাজারে আশ্বিনা আম আসতে শুরম্ন করেছে। দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। আর বাকি ১ ভাগ হচ্ছে বারি আম-৪। এ আম এখনও বাজারে আসেনি। এছাড়াও অন্যান্য জাতের আম বাজারে আছে তবে তার দামও চড়া।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আরেক সূত্রে জানা গেছে যে এবার আমের ফলন কম হওয়ায় এবং ভরা মৌসুমে রমজান মাস থাকায় মানুষ ইচ্ছে করলেও আম খাওয়ার সুযোগ পায়নি। আর রমজান মাস শেষে স্বাদ পেতে না পেতেই আম শেষ। গত বছর খিরসাপাত, গোপালভোগ,ল্যাংড়া আম বাজারে বিক্রি হয়েছে ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ ১৭শ’ টাকা মণ দরে। এবার তা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ,সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ। গত বছর ফজলী বিক্রি হয়েছে ১৪শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা মণ দরে। কিন্তু তার থেকে আমের দাম অতি চড়া। আমের যোগান থাকলেও তা ছিল সাময়িক। রমজান মাস থাকায় প্রথম প্রথম আমের ওপর চাপ ছিল কম।
রাজশাহীতে ২০১৮-১৯-এ আমের আবাদ গত ২০১৭-১৮ সালের চেয়ে ১০৩ হেক্টর বেশি হলেও উৎপাদন হয়েছে গতবারের চেয়ে আম উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ০৯৬ মেট্রিক টন কম। এবার আমের আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে। গতবছর আমের আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৪শ’ ৬৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার আবাদ হয়েছে ১০৩ হেক্টর বেশি। এবার আম উৎপাদনের লড়্গ্যমাত্রা ২ লড়্গ ১০ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন । এবার গড় ফলন ১২.০ লড়্গ্যমাত্রা ধরা হলেও ফলন হয়েছে ১১.৫১ মেট্রিক টন। আর গত বছর ফলন হয়েছিল ১২.২২ গড় মেট্রিক টন।
এবার প্রচুর আমের মুকুল আসলেও ঝড়,শিলাবৃষ্ট্‌িসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে অনেক মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে আমের ফলন ভাল হবে মনে করা হলেও কমে গেছে আমের উৎপাদন। এ অভিমত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।
তবে আম ব্যবসায়ীদের মত হচ্ছে, এবার আমের মৌসুমে রমজান মাস হওয়ায় মানুষ অল্প সময় আম খেতে পেরেছে। তবে দাম বেশি পাওয়ায় আম চাষিরা খুশিতেই আছেন। অথচ গত বছর বাজারে বেশি আম সরবরাহ হওয়ায় পানির দামে বিক্রি করতে গিয়ে অনেক আম চাষিকে ড়্গতির সম্মুখীন হতে হয়। অপর দিকে এবার দাম পেলেও প্রয়োজনীয় আমের ফলন না হওয়ায় সমান্যতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় কৃষকদের।
এখনো বাজারে আসতে বাকি রয়েছে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিকটন আশ্বিনা আম। এ তথ্য রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রের। তাদের মতে রাজশাহীতে এবার আমের উৎপাদন লড়্গ্যমাত্রার কম হওয়ায় আমের মৌসুম আগে-ভাগেই শেষ হয়ে গেছে। খুব বেশি গরম থাকায় একই সাথে আম পেকে গিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আম চাষিকে পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে বিভিন্ন জাতের আম।
মৌসুম প্রায় শেষ হলেও আশ্বিনা ও কিছু ফজলী আম বেশকিছু অবশিষ্ট আছে। এ ছাড়াও বাজারে কিছু কিছু আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বাজারে আশ্বিনা আসতে শুরম্ন করলেও পর্যাপ্ত নয়। ফজলীর সাথে সাথে এখন আশ্বিনা আম বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এক দেড় মাস ধরে এ আম বাজারে কেনা-বেচা হবে। আশ্বিনা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি। আর গ্রামে-গঞ্জের হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।
আশ্বিনা আম সাধারণতঃ রাজশাহী জেলার বাঘাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেশি হয়ে থাকে। অন্যান্য আমের মত সুস্বাদু না হলেও এ আম দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু খাদ্য তৈরি হয়ে থাকে। এ আমের ফলনও বেশ ভাল। এ আম বাজারে ২৪শ’ থেকে ২৫শ’ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।