স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগ কর্মী ফারম্নক হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে সাঈদীসহ মোট ১০৪ জন আসামির বিরম্নদ্ধে এই অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করা হয়। অভিযোগ গঠন শেষে মামলার বিচারের (সাড়্গ্য গ্রহণের) জন্য এ বছরের ১৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে অভিযোগের শুনানির জন্য মামলায় জামিনে থাকা ৬০ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানির জন্য বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের আসামি বহনকারি প্রিজন ভ্যানে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে আদালত চত্বরে এবং হুইল চেয়ারে বিচারিক আদালতে আনা হয়।
আদালত সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৯ ফেব্রম্নয়ারি রাবিতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ দিন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এসএম হলের টিভি রম্নমে ছাত্রলীগ কর্মী ফারম্নককে হত্যা করে ম্যানহোলের ভেতরে লাশ ভরে রাখে। এ নিয়ে ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদি হয়ে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাবি ছাত্র শিবির সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ,জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ ৩৫ জনের নাম উলেস্নখ করে আরও ৩০/৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এরপর ২০১২ সালের জুলাই মাসে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদনত্মকারি কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে ১১০ আসামির নাম রয়েছে। দেড় বছর আগে মামলাটি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানানত্মর করা হয়। এরপর অভিযোগপত্র দাখিলের ৯ বছর পর এ মামলার অভিযোগ গঠন হলো। ফলে এখন থেকে মামলার বিচার কার্যক্রমও শুরম্ন হলো। অভিযোগের শুনানির সময় ৫৯ জন আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। আর দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ছিলেন কাঠগড়ার বাইরে, আদালতের ভেতরেই। তিনি হুইল চেয়ারে বসে ছিলেন। বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় তাকে কাঠগড়ার বাইরে রাখা হয়। পরে শুনানি ও অভিযোগ গঠন শেষে বেলা ১২টার দিকে তাকে আদালত থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পিতার সাথে সাড়্গাত করতে আদালতে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর দুই ছেলে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপড়্গে অভিযোগের শুনানি করেন অতিরিক্ত পিপি সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন। তাকে সহায়তা করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিপি (অতিরিক্ত পিপি) এহসান আহম্মেদ শাহীন, অতিরিক্ত পিপি সুশানত্ম সরকার, অতিরিক্ত পিপি নাসরিন আখতার মিতা। আসামি পড়্গে শুনানি করেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম, আবু মোহাম্মদ সেলিম।
রাষ্ট্রপড়্গের আইনজীবী সিরাজী শওকত জানান, মামলার মোট ১১০ জন আসামির মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে ইতিমধ্যে মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের। এছাড়াও শাহীনসহ এই মামলার ৬ জন আসামি মারা গেছেন। তাই এই ৬ জনকে বাদ দিয়ে ১০৪ জনের বিরম্নদ্ধে অভিযোগ গঠন হলো। এদের মধ্যে ৪৭ জন পলাতক রয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে আইনজীবী শওকত সালেহীন বলেন, ফারম্নক হত্যাকা-ের দুই দিন আগে ৭ ফেব্রম্নয়ারি মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ও রাজশাহী জামায়াতের শীর্ষ নেতারা শহরে ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি খুনের নির্দেশনা দেন। এরপর ৮ ফেব্রম্নয়ারি থেকেই প্রস্তুতি নেয় ছাত্রশিবির। ৯ ফেব্রম্নয়ারি তারা সংঘর্ষ বাধিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ফারম্নককে হত্যা করে। আদালতে রাষ্ট্রপড়্গের আইনজীবী আরও জানান, অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরম্ন হলো। মামলার আগামী ধার্য দিন থেকে সাড়্গ্য গ্রহণ শুরম্ন হবে। মামলাটিতে প্রায় শতাধিক সাড়্গী রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন জানান, এই মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য গত শনিবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে রাজশাহী কারাগারে আনা হয়। খুব দ্রম্নত সময়ের মধ্যে তাকে আবার কাশিমপুরে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে সাঈদীর উপস্থিতিকে ঘিরে বুধবার থেকেই রাজশাহীর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরো আদালত চত্বরকেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনী। বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাব ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সক্রিয় ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। আদালত চত্বরের সবগুলো প্রবেশমুখে তলস্নাশি ছাড়া কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয় হয়নি।