স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে আষাঢ়ের প্রায় পুরোটাই কেটেছে বৃষ্টিহীনতায়। তবে শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহ শেষে রাজশাহীতে শুরম্ন হয়েছে ভারি বর্ষণ। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে মহানগরীর নিচু এলাকাগুলোতে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টা থেকে গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা পর্যনত্ম ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাই এটিকে ভারি বর্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার কম বৃষ্টিপাত হলে সেটা সাধারণ বৃষ্টি। আর ২২ থেকে ৪৩ মিলিমিটার পর্যনত্ম হলে তা মাঝারি। এছাড়া ৪৪ থেকে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারি বর্ষণ ধরা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটা অতি ভারি বর্ষণ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেড়্গক রাজীব খান জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টি শুরম্ন হয়ে থামে গতকাল ভোররাত সাড়ে ৩টায়। এই সময় পর্যনত্ম মোট ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এরপর গতকাল বেলা ৩টা ৫ মিনিটে আবার বৃষ্টি শুরম্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যনত্ম বৃষ্টি চলছিলই। রাতটা পর্যনত্ম বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৪২ দশমিক ৪ মিলিমিটার। অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার।
এদিকে ভারি এই বর্ষণে রাজশাহী মহানগরীর নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় বিকালে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, গণকপাড়া, গোরহাঙ্গা রেলগেট, স্টেডিয়াম সুপার মার্কেট থেকে শালবাগান বাজার পর্যনত্ম সড়ক, মহিলা কলেজের সামনের সড়ক, বর্ণালী মোড়, শিরোইল বাস টার্মিনাল ও উপশহর এলাকায় হাঁটুসমান পানির ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। এমন জলমগ্ন রাসত্মা দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ফটক হতে জরম্নরি বিভাগের সামনে পর্যনত্ম জলাবদ্ধতায় চরম ভোগানিত্মর মধ্যে পড়েছেন রোগী ও অভিভাবকবৃন্দ। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে হাসপাতালের মূল ফটকে মানুষের কোমর অবদি পানি জমে। এ সময় মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ ও বাহির হওয়া খুব মশকিল হয়ে পড়ে। দিনে রাতে ২৪ ঘণ্টা রোগীর স্বজনদের ওষুধসহ বিভিন্ন কাজে হাসপাতালের ভিতরে এবং বাহিরে আসা-যাওয়া করতে হয়। অনেকে আবার জমে থাকা পানি ভেঙেই হাসপাতালে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। এতে ঝুঁকিও রয়েছে। ড্রেনের পানির সঙ্গে বৃষ্টির পানি মিশে এই জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে চর্ম রোগসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে মানুষ আক্রানত্ম হতে পারে। বৃষ্টির সুযোগে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে থাকা কিছু ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও সাধারণ রিকশার চালকরা এক ধরনের বাণিজ্য শুরম্ন করে। হাসপাতালের মূল ফটক হতে জরম্নরি বিভাগ পর্যনত্ম মানুষ প্রতি ভাড়া নেয় ৫ টাকা।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেড়্গক রাজীব খান বলছেন, এখনও আকাশে প্রচুর মেঘ রয়েছে। তাই আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। গতকাল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ২ ও সর্বনিম্ন ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পাওয়া গেছে। আগের দিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ৮ এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।