এফএনএস: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি ফের বিপদসীমার ১৫ সেন্টি-মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আবারো বন্যার পদধ্বনিতে শঙ্কিত লালমনিরহাটের তিস্তা পাড়ের হাজারো পরিবার।
গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৯৫ মিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ মিটার) বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর ১২টায় ছিল ১৫ সেন্টি-মিটার ওপরে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমা বরাবরে প্রবাহিত হয়ে ওই দিন মধ্যরাতে কমে যায়। এরপর গতকাল বুধবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি প্রবাহ। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফের বন্যার শঙ্কায় রয়েছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। স’ানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপ-জেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো পৱাবিত হয়ে প্রায় ৩/৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে-ছেন। এসব অঞ্চল গত ১০ জুলাই শুর্ব হওয়া সপ্তাহব্যাপী বন্যায় পানিবন্দি থেকে সবেমাত্র মুক্তি পেয়েছেন।
বন্যার পানি নেমে যেতে না যেতেই ফের বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্না-ঞ্চলের মানুষ। তিস্তার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার পাটগ্রাম উপ-জেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়া-জান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকা-পাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপ-জেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরাঞ্চল পৱাবিত হয়ে পড়েছে। ফের পানিবন্দি হতে শুর্ব করেছে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলো। এসব অঞ্চলে বিগত বন্যায় শুর্ব হওয়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন। আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল পাসাইটারী গ্রামের মানিক মিয়া ও মজমুল হক জানান, গত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সোমবার পানিবন্দি হয়ে পরদিন মুক্তি পান তারা।
গতকাল বুধবার ফের বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। এখন ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে ফের দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। হাতীবান্ধা উপ-জেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ি গ্রামের আবদুর রহমান, আনেচ আলী জানান, নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় তিস্তার পানি প্রবাহের পথ নাই। তাই তিস্তার পানি বাড়-লেই ডুবে যান তারা। কোনোরকম ভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সরকার ত্রাণ দিচ্ছে।
কিন’ এভাবে আর কত দিন চলা যাবে। বন্যার কারণে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তারা। এজন্য নদী খনন করে বাম তীরে স’ায়ী বাঁধের দাবি করেন তারা। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্যারেজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারে-জে বিপদসীমা অতিক্রম করায় উজানের ঢল বেড়ে যায়। ফলে তিস্তাপাড়ে ফের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি। লাল-মনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বিপদসীমা অতিক্রম করায় নিম্নাঞ্চল পৱাবিত হতে পারে। সার্বক্ষণিক তিস্তাপাড়ের মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। বিগত বন্যায় শুর্ব হওয়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এসব এলাকায় চলমান রয়েছে। ফের বন্যা হলে মোকাবেলা করতে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।