স্টাফ রিপোর্টার: পৌরসভার কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশনের দাবীতে দেশের ৩১৪ টিসহ রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার স্টাফরা আন্দোলনে থাকায় সকল সেবা কার্যক্রম ১০দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। ফলে সেবা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ রেখে ১৪ জুলাই রোববার থেকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস’ান কর্মসূচি পালন করছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের একটাই দাবি, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পেনশনসহ বেতন-ভাতা দিতে হবে। গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাতে অবস’ান করছেন দেশের বিভিন্ন পৌরসভার সহশ্রাধীক পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পলিথিনের ত্রিপল টানিয়ে বসে আছেন আন্দোলনকারীরা। ‘মাস শেষে বেতন নাই, এ কেমন চাকরি ভাই’, ‘দেখ কত জ্বালা, পৌরসভায় তালা’ নানা সেৱাগান দিচ্ছিন তারা। এছাড়া খ- খ- মিছিল হচ্ছে।
এদিকে টানা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পৌর এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় পৌর এলাকার অলিগলিতে জমেছে ময়লার স্তূপ। আবার অনেক এলাকায় সড়কবাতি না জ্বলায় ঘুট ঘুটে অন্ধকার পৌর এলাকায়। কর সংগ্রহ, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতারা ফিরে যাচ্ছেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসি।
জানা যায়, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সর্বশেষ ১৪ জুলাই রোববার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস’ান নিয়েছেন।
রাজশাহী জেলার নওহাটা পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী আতাউর রহমান বলেন, ‘তার পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন বকেয়া না থাকলেও জেলার অনেক পৌরসভার অর্থের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারির তিন মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বেতন বন্ধ রয়েছে। যাদের বেতন বন্ধ রয়েছে-তাদের ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে সরকারের কাছে আমাদের এই দাবি খুবই ন্যায্য দাবি। এখনো পৌরসভাগুলোতে জনবল কাঠামো কম রয়েছে। অর্থের সংকুলান নাই জেনে অনেক পৌরসভা লোক নিতে পারছে না। এতে জনগণ কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন’। সারা দেশের মত রাজশাহীর ১৪ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারি ঢাকায় অবস’ান কর্মসূচির নামে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে পৌরসভার মূল ফটক। ভবনের বাইরে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। পৌরবাসি সেবা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে।
নওহাটা পৌর প্যানেল মেয়র আজিজুল হক বলেন, ‘পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ন্যায্য দাবিতে আমিও একমত। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জনগণ যাবতীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরাও পড়েছি বিড়ম্বনায়। কর সংগ্রহ, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেবাগ্রহীতারা ফিরে যাচ্ছেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসি’।
পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা সভাপতি ও কেশরহাট পৌরসভা লাইসেন্স পরিদর্শক রোকনুজ্জামান টিটু বলেন, ‘পৌর কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দেয় সরকার, আর বেতন দেয় পৌরসভা। এভাবে আর চলতে পারে না। সরকারি কর্মচারী হয়েও আমরা আর্থিক, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পৌরসভার কর্মকর্তা, কর্মচারীদের শতভাগ বেতন-ভাতাসহ পেনশন চালু না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলন চলবে। যদি এবারে পরিবার পরিজন ছেড়ে রাস্তায় বসে ঈদ করতে হয় তাও করবো’।
সংশিৱষ্ট সুত্রে জানা গেছে, সারাদেশের পৌরসভায় স’ায়ী ও মাস্টাররোল মিলিয়ে মোট কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন প্রায় ৩৫ হাজার। সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় দেশের পৌরসভাগুলোর বেতন-ভাতা খাতে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছিল, যা চাহিদার ১ শতাংশের কম।