স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে রাজশাহীর এক আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ বালুঘাট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। নগরীর তালাইমারী এলাকায় এই বালুঘাট খুলেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু। হাইকোর্টের নির্দেশে তার এই ‘বালু সাম্রাজ্যে’ হানা দেয় প্রশাসন।
আজিজুল আলম বেন্টু ‘মেসার্স আমিন ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তার প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদীর চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজায় ১২০ একরের একটি বালুমহাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা নিয়েছিল। কিন্তু ইজারাবহির্ভূত এলাকা কাজলা মৌজা থেকে বালু তোলা হচ্ছিল।
গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদীর কাজলা মৌজায় থাকা এ বালুঘাটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজ এ অভিযান চালান। তিনি বালুঘাট থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করেন। এদের মধ্যে একজন স্কেভেটর চালক, দুইজন ড্রেজার চালক ও পাঁচজন ট্রাকচালক।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজ জানান, গ্রেপ্তারের পর ওই আটজনকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের কারাদ- দেওয়া হয়। আটজনের মধ্যে ছয় জনকে এক মাস এবং দুইজনকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। পরে তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল আলম বেন্টু ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে বালু তোলায় নগরীর বুলনপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন বালু ব্যবসায়ী ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছিলেন। এ নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। তবে বেন্টু দাবি করে আসছিলেন, তিনি সঠিক জায়গা থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। শুধু কাজলা মৌজার রাসত্মা ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসন তার কথার সত্যতা পায়নি। এখন কাজলা মৌজা থেকে শুধু বালু তোলাই বন্ধ নয়, পরিবহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিজের ইজারা নেওয়া চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজা থেকে বালু তুললেও কাজলা মৌজার কোনো রাসত্মা ব্যবহার করে আজিজুল আলম বেন্টু বালু নিয়ে যেতে পারবেন না। জেলা প্রশাসন সাইনবোর্ড টাঙিয়ে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে দিয়েছে।
ওই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে- ‘মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং- ৬৫২১/২০১৯ এর আদেশ মোতাবেক কাজলা মৌজা/কাজলা ঘাট ব্যবহার করে সকল ধরনের বালু উত্তোলন/পরিবহন নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদেশক্রমে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী।’
জানা গেছে, বেন্টুর এই অবৈধ বালুঘাট বন্ধের জন্য আনোয়ার হোসেনের করা রিটের প্রেড়্গিতে হাইকোর্টে দুইদফা শুনানি হয়। এরপরই হাইকোর্ট কাজলা মৌজা থেকে বালু তোলা বন্ধের নির্দেশ দেন। আনোয়ার বলছেন, অনেক আগেই বালুঘাটটি বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন নানাভাবে সময়ড়্গেপণ করে আওয়ামী লীগ নেতাকে বালু তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে শেষ পর্যনত্ম হাইকোর্টের নিদের্শ বাসত্মবায়ন করায় তিনি খুশি। এ জন্য তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, গত সোমবার আমি হাইকোর্টের কাগজপত্র হাতে পাই। এতে অবৈধভাবে বালু তোলা হলে বন্ধ করে ১৫ দিনের মধ্যে আমাকে হাইকোর্টে জানাতে বলা হয়। আমরা পরীড়্গা-নীরিড়্গা করে দেখি, কাজলা মৌজায় কোনো বালুমহাল ইজারা দেয়া হয়নি। সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল। তাই সেটি বন্ধ করা হয়েছে।