রেলের উন্নতিতে সরকার সচেষ্ট থাকলেও কাঙিড়্গত সেবা পাচ্ছেন না রেলযাত্রীরা। নানা কারণেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে রেলযাত্রা। পশ্চিমাঞ্চলে রেললাইনের ধারণড়্গমতার চাইতে দ্বিগুণেরও বেশি ট্রেন চলাচলের কারণে সময় মেনে ট্রেনের যাওয়া-আসা কঠিন হয়ে উঠেছে। তার ওপর পশ্চিম রেলের বেশির ভাগ রেলক্রসিংয়েই নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস’া। অরড়্গিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যাই ৭১৪।
পশ্চিম রেলের আওতায় লেভেল ক্রসিং রয়েছে সব মিলিয়ে দুই হাজার ৩৬৫টি। এরমধ্যে ট্রাফিক বিভাগ পরিচালিত রেলক্রসিং ২৯৮টি। এগুলো অনুমোদিত এবং গেটম্যান রয়েছে। আর রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের আওতাধীন দুই হাজার ৬৭টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে এক হাজার ৩৪টি অনুমোদিত হলেও গেটম্যান আছে মাত্র ৩১৯টিতে। গেটম্যান ছাড়াই শুধু সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দিয়ে চলছে ৭১৪টি রেলক্রসিং।
আবার ট্রাফিক বিভাগের ২৯৮ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান পদ রয়েছে ১৭৩টি, কর্মরত রয়েছেন ১২৩ জন। তবে ২৮৭ জন অস’ায়ী কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। আর প্রকৌশল বিভাগের ৩১৯ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের পদ ১৮৯টি, কর্মরত মাত্র ৯৭ জন। ৯২টি পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। এখানেও ২৯২জন অস’ায়ী কর্মী কাজ করছেন। অর্থাৎ রেলক্রসিং অনুমোদিত হলেও পর্যাপ্ত সংখ্যক গেটম্যান নেই। ফলে দায়িত্বপাল করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে রেল কর্তৃপড়্গকে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলে অবৈধ রেলক্রসিং বলা হচ্ছে ৩৩৯টি। ২০১৫ সাল থেকে শুরম্ন হওয়া লেভেলক্রসিং গেট পুনর্বাসন ও মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসেছে ৩২৬টি রেলক্রসিং। ৫৩টি অবৈধ রেলক্রসিংয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং ২০৪টিতে দেয়া হয়েছে গেটম্যান। এভাবেই গেটম্যান পেয়েছে সিরাজগঞ্জের উলস্নাপাড়ায় অবৈধ রেলক্রসিং যেখানে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ ১২ মাইক্রোবাসযাত্রী নিহত হয়েছেন ১৫ জুলাই।
পাকা রাসত্মার ওপর এ ধরনের অবৈধ রেলক্রসিং বছরের পর বছর চালু থাকে কীভাবে সে প্রশ্ন জাগা খুবই স্বাভাবিক। যদিও এ জন্য স’ানীয় লোকজনকে ইচ্ছেমতো রেলক্রসিং খুলে চলাচল করার জন্য দোষি সাব্যসত্ম করা হয়েছে।
সরকারের কোনো না কোনো বিভাগ ছাড়া পাকা রাসত্মা স’ানীয় লোকজন ইচ্ছা মতো করতে পারে কি-না সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। অন্যকে দায়ী করে দায় অস্বীকারের চেয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস’ার কাজে সমন্বয় এবং রেলের জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন তরান্বিত করে অরড়্গিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা দ্রম্নত কমিয়ে আনাই কাম্য।