টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন স’ানে দেখা দিয়েছে বন্যা। দেশের বিভিন্ন স’ানে কয়েক দিনে বন্যা পরিসি’তি ভয়াবহ রূপ নেয়। নওগাঁ, বগুড়া, সিরাগঞ্জ, গাইবন্ধা, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। তিসত্মা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করলেও বিপৎসীমার ওপরে বইছে। নীলফামারীতে ড়্গতিগ্রসত্ম লোকের সংখ্যা দুই উপজেলায় ২৮ হাজারেরও বেশি। যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে বইছে। নদীভাঙনে ড়্গতিগ্রসত্ম সাড়ে চার শ পরিবার। গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। গাইবান্ধায় রেলপথ ডুবে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে পানি কমতে থাকায় কোথাও কোথাও পরিসি’তির উন্নতি হচ্ছে। তবে দেশের অভ্যনত্মরে এবং উজানে বর্ষণ কমলেও পানির ঢলে দেশের নদ-নদীর ২৩টি পয়েন্টে এখনো পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম দিকেই ২১টিরও বেশি জেলায় বন্যা দেখা দেয়। পরে প্রভাব পড়ে মধ্যাঞ্চলেও। শনিবার থেকে ধীরে ধীরে সার্বিক বন্যা পরিসি’তির উন্নতি হতে থাকে। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বেড়ে গেছে দুর্গত মানষের দুর্ভোগ। এরইমধ্যে বন্যাকবলিত বেশির ভাগ এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙকট। অনেক স’ানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। বন্যায় গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে বিপদে পড়েছে মানুষ। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্যের সঙকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় প্রচ- গরমে দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের শঙকাও দেখা দিয়েছে।
এহন অবস’ায় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বন্যার্ত মানুষের খাদ্য সঙকট, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সঙকট নিরসনে ত্রাণ তৎপরতার আরও জোরদার দরকার। বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। আমরা আশা করব, বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘবে সম্ভব সব ব্যবস’া নেবে সরকার।