এফএনএস: ঘুষ কেলেঙ্কারির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাময়িক বরখাসত্ম হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরম্নল কায়েস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আসামি এনামুল বাছিরকে ডিভিশন দেওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস’া নেওয়ার নির্দেশ দেন।
খন্দকার এনামুল বাছিরের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ কবির হোসাইন। তাকে সহযোগিতা করেন খন্দকার এনামুল খায়ের। আর তার জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। এর আগে গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে দুদকের পরিচালক ফানাফিল্যার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম মিরপুরের দারম্নস সালাম এলাকা থেকে এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করা হয়। এনামুল বাছিরের আইনজীবী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে দারম্নস সালামের লালকুঠি এলাকা থেকে এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন, কমিশনের তথ্য পাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে এর আগে সাময়িকভাবে বরখাসত্ম করে সংস’াটি।
গত ১৬ জুলাই ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে পুলিশের বরখাসত্ম উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরম্নদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিলস্নাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে দায়মুক্তি দিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার জন্য ‘চুক্তি’ করেন খন্দকার এনামুল বাছির। সঙ্গে দাবি করেছেন একটি গ্যাসচালিত গাড়ি। ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে বাজারের ব্যাগে করে নগদে নিয়েছেন দুদকের বরখাসত্ম হওয়া এই পরিচালক। তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও তদনত্ম-২ অনুবিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। এদিকে, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ পেয়েই মূলত নড়েচড়ে বসে দুদক। এ ঘটনা তদনেত্ম কমিশনের সচিব দিলওয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাসত্ম করা হয়। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরম্নদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
খন্দকার এনামুল বাছির ১৯৯১ সালে অ্যান্টি করাপশন কর্মকর্তা (এসিও) হিসেবে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে যোগ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হওয়ার পর তিনি সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। দুদকের সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিআইজি মিজান পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পায় দুদক।
অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ১০ ফেব্রম্নয়ারি কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে এ ঘটনা তদনেত্মর দায়িত্ব পান এনামুল বাছির।