এফএনএস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সমপ্রতি গণপিটুনিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন। এ নিয়ে নয়টি মামলা হয়েছে। সব মামলাই হবে হত্যা মামলা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব মামলায় ৮১ জন গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ছেলেধরা বিষয়টি নিছক গুজব। এ ধরনের ঘটনায় গণপিটুনিতে অংশ নিয়ে হত্যাকা- ঘটালে অবশ্যই আমরা তাকে আইনের মুখোমুখি করবো। আইন অনুযায়ী তাকে শাসিত্ম পেতেই হবে। তিনি বলেন, একশজন যদি এ ঘটনা ঘটান তার শাসিত্ম কিন’ একই রকম হবে। এ ধরনের হত্যাকা- ঘটালে অবশ্যই আমরা তাকে আইনের মুখোমুখি করবো। আইন অনুযায়ী তাকে শাসিত্ম পেতেই হবে। ঘটনার সত্যতা না জেনে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যারা এ ধরনের ঘটনার সত্যতা বিচার-আচার না করে নিজেরা আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, তাদের কাছে সবিনয় অনুরোধ করবো আপনারা কোনোক্রমেই আইন হাতে তুলে নেবেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস’া আছে, যদি কারো প্রতি কোনো রকম সন্দেহ হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস’ার হাতে সোপর্দ করেন। কিংবা তাদের ৯৯৯-এ জানান। কিংবা ওই এলাকার সবাইকে জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য মিডিয়ার মাধ্যমে আবেদন করম্নন যাতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা আর না ঘটে। এরইমধ্যে কয়েকজন এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন। আমরা বসে নেই। সবগুলো ঘটনা সামনে এনে ভিডিওফুটেজ দেখে কারা কারা সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, আমরা আইনানুগ ব্যবস’া নিচ্ছি। গণপিটুনির ঘটনা বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস’ার কারণেই হচ্ছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে নেই। তারা কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে। আস’াহীনতা নেই।
তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম যারা করেছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে যারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছেন, আমাদের পুলিশ কিন’ বসে থাকবে না। যারাই ঘটাবেন তাদের আমরা শনাক্ত করবো এবং আইনের মুখোমুখি করবো। আমাদের পুলিশকে আর এত অদক্ষ ভাববেন না। যারাই ঘটাবেন, যারাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচারণা করতে চেষ্টা করবেন, বিভ্রানিত্ম সৃষ্টির চেষ্টা করবেন- অবশ্যই তাকে আইন অনুযায়ী শাসিত্ম পেতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া এতোই আমাদের দেশে ইউজ করেন, দেখেন -একটা ফিগার শুনলেই তো এখন আঁতকে উঠতে হয়। এত মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। আমরা সেই জায়গাটিতেই বলি, সোশ্যাল মিডিয়ার সবকিছুই খবর যেন কেউ বিশ্বাস না করেন, সঠিক প্রমাণ কেউ না পেয়ে যেন আইন হাতে না তোলেন। কেউ যেন অহেতুক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উত্তেজিত না হয়ে ঘটনা জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেন, পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরম্নদ্ধে কী ব্যবস’া নেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যারা সোশ্যাল মিডিয়াকে সম্বল করে এ ধরনের ঘটনা ছড়িয়েছে তাদের চারজনকে গ্রেফতার করেছি। পৃথিবীর কোনো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা- আমার জিজ্ঞাসা সেটা। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের নিশ্চয়ই একটা উদ্দেশ্য ছিল, উদ্দেশ্যমূলকভাবেই হয়তো তারা ঘটিয়েছে।
গণপিটুনিতে হত্যার পিছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, একটা উদ্দেশ্য, একটি অসি’তিশীল পরিসি’তি, একটা কনফিউশন, মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্যইৃ। একটা সাধারণ মানুষ, সাধারণ শ্রমিক, যারা অশিক্ষিত; তারাও বোঝে একটা ব্রিজ তৈরি করতে মানুষের কোনো মাথা লাগে না। তাহলে কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে? এগুলোর নিশ্চয়ই উদ্দেশ্য আছে, আমরা সবগুলোই দেখছি। কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে আমরা দেখছি এবং ব্যবস’া নেবো। মন্ত্রী বলেন, বিরাট দেশ, এখানে কারও সঙ্গে কারও ধাক্কাধাক্কি শুরম্ন হয়েই যেতে পারে। হঠাৎ করেই এ ধরনের ঘটনাগুলি ঘটে। যেখানেই গুজব সেখানেই যাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকশনে যেতে পারে- সে ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গণপিটুনির ঘটনায় মামলাগুলো দ্রম্নত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে কিনা- প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আমরা মামলাগুলোর দ্রম্নত সম্ভব অভিযোগ দিয়ে দেবো। তাড়াতাড়ি যাতে বিচার হয় সেটারও আমরা ব্যবস’া নেবো। দ্রম্নত বিচার হলেই যে খুব তাড়াতাড়ি বিচার হবে, তেমন তো কোনো কথা নয়। আমরা কত তাড়াতাড়ি অভিযোগপত্র দিতে পারি সেটাই বড় ব্যাপার। সমপ্রতি বাড্ডায় এক নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা সারা দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। আমরা এ ঘটনা খুব গুরম্নত্বের সঙ্গে দেখছি। কেন ঘটনা ঘটালো, ঘটনার ভিডিওফুটেজ দেখে আমরা সাতজনকে গ্রেফতার করেছি, যারা যারা ছিল সবাইকে শনাক্ত করে ব্যবস’া নেবো।
মানসিক প্রতিবন্ধীকেও এই পিটুনির শিকার হতে হয়েছে উলেস্নখ করে মন্ত্রী বলেন, সমাজের যে শাসন বোধহয় অবক্ষয় হয়েছে সেজন্য এ ধরনের ঘটনা আমাদের দেখতে হচ্ছে। এনজিকর্মীকেও এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। আমরা দেখেছি ধামরাইয়ে ব্যক্তিগত কারণে এ ধরনের রটনা রটিয়ে পরিসি’তি সৃষ্টি করেছে। কুনিপাড়ায় বাচ্চাদের রাখার জায়গায় বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রত্যেক মসজিদের ইমাম, স্কুল-মাদ্রাসায় যেন বলা হয় এ ধরনের গুজবে যেন কেউ কান না দেয়, বলেন মন্ত্রী।