এফএনএস: ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। সার্কুলারটি কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নতুন এই রম্নল হয়েছে। এই সংক্রানত্ম জারি করা রম্নল নিষ্পত্তি করতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রম্নল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে গতকাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য উঠলে রিট আবেদনকারী পক্ষের সম্পূরক আবেদনে এই আদেশ দেয় আদালত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন মুনিরম্নজ্জামান। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-বিএবি’র পক্ষে ছিলেন শাহ মঞ্জুরম্নল হক। এ বছরের শুরম্নতে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আ হ ম মুসত্মফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’। এরপর ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ যে সার্কুলার দিয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।
তাদের আবেদনে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের উপর ২৪ জুন পর্যনত্ম সি’তাবস’া জারি করেছিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরম্নল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ। এরপর অর্থ বিভাগের আবেদনে গত ৮ জুলাই আপিল বিভাগ ওই সার্কুলারের উপর হাই কোর্টের সি’তাবস’ার আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স’গিত করে। সেই সঙ্গে হাই কোর্ট আগে যে রম্নল জারি করেছিল, তা নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রম্নল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দেয় আপিল বিভাগ।
গতকাল মঙ্গলবার এই বেঞ্চে শুনানির পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সেই (পুরনো) রম্নলটি শুনানির একপর্যায়ে একটি সম্পূরক রম্নলের জন্য আরেকটি আবেদন করেছিলাম। আজকে সেটার উপরও শুনানি হয়েছে। শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আপত্তির পরও ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রম্নল জারি করেছেন। আগামী ৩১ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে বলে জানান মনজিল। তিনি বলেন, এই সার্কুলারটা জারি করা হয়েছিল ব্যাংকিং কমিশন গঠন বিষয়ে আদালতের রম্নল জারির পর এবং এই সার্কুলারটি ব্যাংকিং কমিশনের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণে এটিতে রম্নল ইস্যু হওয়ার যোগ্য। তাই আদালত ১০ দিনের মধ্যে রম্নলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেছিলেন, সার্কুলারটি সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ক। তাই এই রিট আবেদন ‘মেইনটেনেবল’ না। তখন আদালত রম্নল শুনানির সময় এ বিষয়ে শুনানি করতে বলেছেন, বলেন মনজিল মোরসেদ।