রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: রানীনগরে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে। কিনত্মু তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস’ায় রয়েছে আরও ২ কি.মি. এলাকা।
গত দুই সপ্তাহ জুড়ে দফায় দফায় ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে শুক্রবার ভোর রাতে নওগাঁর রাণীনগরের মালঞ্চি গ্রামের ছোট যমুনানদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের প্রায় ৫০ মিটার ভেঙে যায়। ভাঙন পরবর্তী সময়ে নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন দিন বিরতিহীনভাবে বালুর বসত্মা ও বাঁশের পাইলিং এর মাধ্যমে কাজ করে অবশেষে ভাঙন কবলিত স’ান বন্ধ করা হলেও মালঞ্চি থেকে কৃষ্ণপুর পর্যনত্ম প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্যাপক ড়্গতি হওয়ায় এখনও শঙকা মুক্ত হয়নি। বৃষ্টি নামলেই নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে যে কোন সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হওয়ার আশঙকা রয়েছে। মালঞ্চির বাঁধ ভাঙার কারণে রক্তদহ বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোনা, কাশিমপুর, রাণীনগর সদর ইউনিয়নের রোপা-আমন ধানের চাষযোগ্য অধিকাংশ ফসলি জমি হাঁটু জলে নিমজ্জিক হয়েছে। ফলে রোপা-আমন ধান চাষ নিয়েও শঙকায় রয়েছে স’ানীয় কৃষকরা। বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়েছে বলে স’ানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছেন।
উপজেলার গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান বলেন, আমার এলাকার ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি, মালঞ্চি, কৃষ্ণপুর বেড়িবাঁধটি নির্মাণের পর থেকে অভিভাবকহীন ছিল। সরকারি কোন দপ্তরই এর কোন দায় দায়িত্বে না থাকায় অবশেষে গত শুক্রবার এই বাঁধ ভেঙে আমার ইউনিয়নের অনেক ড়্গতি হয়েছে।
শুক্রবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) আনওয়ার হোসেন ড়্গতিগ্রসত্ম এলাকা পরিদর্শন শেষে এই বেড়িবাঁধটি পুনঃনির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। নওগাঁর ছোট যমুনানদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধির ফলে রাণীনগর-আত্রাই সড়কের প্রায় ৮টি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তীব্র রোদের কারণে নদীর পানি কমতে থাকায় ড়্গতিগ্রসত্ম এলাকায় কোন দপ্তরের লোকজনকে আর চোখে পড়ছে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন বলেন, আমরা ড়্গতিগ্রসত্ম পরিবারের সংখ্যা ও ড়্গতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের জন্য সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার পদড়্গেপ গ্রহণ করেছি।
নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, রাণীনগরের মালঞ্চি নামক স’ানে ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধটি যদিও আমাদের নয় তারপরও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে প্রায় তিন দিন বিরতীহীন ভাবে চেষ্টা করে বালু আর বাঁশের পাইলিং এর মাধ্যমে ভাঙনকবলিত স’ান আপাতত বন্ধ করা হয়েছে।