স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের ভিসা পেতে হলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৫০ ডলার কিনতে হয়। ভারতের ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে ডলার কেনার সেই কাগজ জমা দিতে হয়। কিন্তু এই কাগজেও হয় জালিয়াতি। এই সমস্যার সমাধানে ট্রাভেল কার্ডের প্রচলন শুরম্ন করতে যাচ্ছে ভারতীয় হাইকমিশন।
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস। তিনি বলেছেন, ইদানিং ভিসার আবেদনপত্রের সঙ্গে ডলার ইনড্রোসমেন্টের কাগজে জাল সই পাওয়া যাচ্ছে। তাই তাদের ট্রাভেল কার্ডের দিকে যেতে হচ্ছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি শুরম্ন হয়ে যাবে।
গতকাল সোমবার বিকালে রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্মেলন কড়্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, আজকাল সবকিছুই অনলাইনে হচ্ছে। আমাদেরও টেকনোলজির দিকে যেতে হচ্ছে। আর ট্রাভেল কার্ড খুব সহজ। এটা ডিজিটাল। এতে কোনো জালিয়াতি হবে না।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, গত বছর ১৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে ভারতের ভিসা দেওয়া হয়েছে। ভিসা পাওয়া শক্ত হলে এতো মানুষ ভিসা পেত না। ট্যুরিস্ট ভিসা সবচেয়ে সহজে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ কাগজপত্র জমা দিলে অন্য ভিসাগুলোও খুব সহজে মানুষ পাবে।
এ সময় রিভা গাঙ্গুলী ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে এখন ‘সোনালী অধ্যায়’ উলেস্নখ করে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। তাদের মধ্যে সম্পর্ক অত্যনত্ম আনত্মরিক। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৯০টি উন্নয়ন প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। ভারত বাংলাদেশকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। রাজশাহীতেও ভারত সরকারের অর্থায়নে বেশকিছু উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সনেত্মাষজনক।
তিনি বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে চায়। এ জন্য ব্যবসায়ীদের পড়্গ থেকে যেসব প্রসত্মাবনা দেওয়া হবে তা তারা গুরম্নত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করবেন। তারা চান, দুই দেশের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠুক। বাংলাদেশের রেশম বোর্ড যদি কোনো প্রসত্মাবনা দেয় তবে তাদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই চেষ্টা তারা করবেন। এছাড়া বর্ডার হাট বৃদ্ধি করার ব্যাপারেও তাদের চিনত্মাভাবনা রয়েছে। কারণ, বর্ডার হাটের মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। এই সম্প্রীতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নত করে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারী ভিসাল জয়তী দাস, রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সহকারী কমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাটি, রাজশাহী উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রোজিটি নাজনীন ও নাটোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মালেক। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরম্নজ্জামান মনি সভায় সভাপত্বি করেন। এতে বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলীসহ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।